বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় গভবর্তী নারীর মৃত্যু

এস এম কিবরিয়া, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার শহরের বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সাড়ে ৭ মাসের গভবর্তী এক নারী মৃত্যুর অভিযোগ।

জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টায় লিলি নামের এক গভবর্তীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভর্তির পর কোন ধরনের চিকিৎসা না দেয়ার কারণে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের লোকজন বলেন, আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসছি পরিক্ষার জন্য, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গর্ভবর্তী মহিলার সিজার করতে হবে নচেৎ বাচানো যাবেনা। এর কিছুক্ষন পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান গর্ভবর্তী মহিলা মারা গেছেন।

তাকে কেন চিকিৎসা দেয় হয়নি এমন প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ কর্মচারীরা বাহিরে চলে যান। প্রায় ১ঘন্টা উধাও হয়ে যান।

সরজমিনে সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন ঘটনাস্থল হাসপাতাল পৌছে দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যন্যেদের দেখতে না পেয়ে সবাই প্রায় ঘন্টা খানেক সময় হতাশ হয়ে হয়ে যান।

সবার প্রশ্ন একটাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালাবে কেন, কারণ কি ও বাচ্চাকে বাছানোরও কি দায়ভার ছিলনা ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

নিহতের পরিবারের লোকজন আরো বলেন, প্রথমত সাড়ে সাত মাসের গর্ভবতী মহিলাকে চেকআপের জন্য প্রা: ক্লিনিকে নেয়া হয়েছে তাহলে সিজার কেন? আর সিজার করলেতো অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার কতা কিন্তুু অন্য রুমে কেন। তাছাড়া গর্ভবতীর মৃত্যুর সাথে সাথে বাচচার জন্য কি করলেন ডাক্তার এমন প্রশ্ন তোলে পরিবার ও আত্বীয় স্বজন এমনকি যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের মাঝে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু তাই নয় মহিলার মৃত্যুর সাথে সাথে কেনইবা দায়িত্বরতরা পালিয়ে গেলেন?। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারিদিক থেকে লোকজন ছুটে আসলে হাল্লা চিৎকার শুরু হয়।

খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আইনগত বিষয়ে সহযোগিতায় আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

লিলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বলিয়ারবাগ গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আহাদ মিয়া স্ত্রী।

স্থানীয় লোকজন আরোও জানান, এ ধরণের ঘটনা এই হাসপাতালে নতুন নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করে নেয়।

এ ব্যাপারে বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে বারবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে, কেউ ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পাদনায়: মেহেদী/ কামাল।

Share Button