করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মৃত গামের্ন্টস কর্মীর লাশ তিস্তা নদীতে

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মৃত গামের্ন্টস কর্মী মৌসুমীর লাশ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল- রংপুর মেডিকেলের দালাল চক্র

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট: সোমবার (২৫ মে) দুপুরে জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাগডোরায় তিস্তা নদীতে ভেসে আসা তরুনীর লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মৌসুমী(২২)। সে একজন গামের্ন্টস কর্মী। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার উফামারা গুচ্ছ গ্রামের দিনমজুর মোঃ গোলাম মোস্তাফার মেয়ে। রবিবার রাতে এই গামের্ন্টস কর্মীর লাশ তিস্তা নদীতে বেসে উঠে।

থানা পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, দুই দিন আগে গামের্ন্টস কর্মী মৌসুমী ঢাকায় সর্দি, জ¦র ও গলা ব্যাথা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তাকে স্বজনেরা ট্রাকের কেবিনের ভিতরে শুয়ে ঢাকা হতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু ২৩ মে ভোরে পথিমধ্যে গামের্ন্টস কর্মী মৌসুমী মারা যায়। ওইদিন সকালে রংপুরের সাতমাথা সংলগ্ন এলাকায় তাজহাট মোড়ে তাজহাট থানার পুলিশ ট্রাক তল্লাশির সময় তরুনীর মৃত দেহের সন্ধান পায়। ফলে তারা মেয়েটির লাশ ময়না তদন্ত শেষে একই দিন মেয়ের বাবাকে রাতে লাশ বুঝিয়ে দেয়।

এদিকে এই গামের্ন্টস কর্মীর মৃত্যুর খবর পাটগ্রামের উফামারা গুচ্ছ গ্রামে পৌচ্ছে যায়। গুচ্ছ গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল ছড়িয়ে দেয় মৌসুমী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তার লাশ পাটগ্রামের গুচ্ছ গ্রামে দাফন করা যাবেনা। এই বলে মেয়েটির পিতাকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়। সেই সাথে ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়। তাই মেয়ের বাবা মেয়ের লাশ রংপুর হতে আনতে ভয় পায়। বাবা মেয়ের লাশ দাফনের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি দালাল চক্রের কাছে ৫ হাজার টাকাসহ লাশটি হস্তান্তর করে। কথা ছিল তারা লাশটি ধর্মীয় রিতি মেনে দাফনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এই চক্রটি লাশ দাফন না করে তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা বাড়ি ফিরে আসে। পরিবারের অন্য স্বজনদের বলে রংপুরের তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার রাতে জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাগডোরায় তিস্তা নদীতে লাশটি ভেসে উঠে। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। আদিতমারী থানা পুলিশ রবিবার রাতেই লাশটি উদ্ধার করে। তখন তরুনীর শরীরে পুলিশের লাশ ডিষ্টাবেল ব্যাগে মোড়ানো ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সারারাত ধরে নানা গুঞ্জনের ডালপাতা মেলে।

পরে সোমবার সকালে পুলিশ লাশের পরিচয় মিলেছে বলে জানান। মৃতের বাবা তার মেয়েকে সনাক্ত করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান,এসপি স্যারের নির্দেশে নিহতের লাশ পুলিশের তত্বাবোধানে পাটগ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করার ব্যবস্থা করা হবে। পোষ্টমডেম রির্পোট এলে গামের্ন্টস কর্মী নিহতের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। আদোতে তার করোনা সংক্রমিত হয়ে ছিল কিনা ও করোনা পরীক্ষার নমূনা নিয়েছে কিনা এই মূহুর্তে জানা নেই বলে জানান।
এসপি আবিদা সুলতানার প্রশংসিত উদ্যোগ
গামের্ন্টস কর্মী বাবা আদিতমারী থানায় এসে লাশ সনাক্ত করে জানায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তার মেয়ের লাশ পাটগ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করার মত অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার নেই। এছাড়াও ভয় ভীতি হুমকী রয়েছে। তার মেয়ের লাশ পাটগ্রামের উফামারা গুচ্ছ গ্রামের দেওয়ানিরা দাফন করতে দিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এ খবর এসপি আবিদা সুলতানার কানে যায়। ফলে এসপি আবিদা সুলতানা নিজ দায়িত্বে গামের্ন্টস কর্মী মৌসুমীর লাশ পরিবহন ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। সেই সাথে সর্তকতা মূলক সকল ব্যবসা নিয়ে লাশ দাফনের নির্দেশ দেন। পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত মোহন মন্ডল জানান, আজ সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক দূরত্ব মেনে আত্মীয়
 স্বজনদের উপস্থিতিতে সামান্য সংখ্যক লোক নিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা সদরের সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন >>>>>>

রাজনগরে চেয়ারম্যানের হাতে লাঞ্চিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম
সিলেটে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধের মৃত্যু

Share Button