সৌদিতে বাঙ্গালী নারীর আর্তনাদ – আমাকে বাঁচান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ‘আমাকে বাঁচান। আমি এখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খেতে দিচ্ছে না, এমনকি পানি পর্যন্ত দিচ্ছে না। আমার নাম সাবিনা। আমার পিতার নাম রফিক। বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের থানা পাড়া পুলিশ ক্লাবের পেছনে। ভাই আপনি একটু ফোন দেবেন আমাকে?’ বলতে বলতেই কেটে গেল সংযোগটি।

কিছুক্ষণ পর ওই নম্বরে কল দেয়া হলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমি অনেক কষ্ট করে আপনার নম্বরটি পেয়েছি। আপনি একজন সাংবাদিক। আপনার অনেকের সঙ্গে জানাশোনা আসে। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করুন। না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনে আমাকে সাহারা কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে সৌদিতে এনে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু কোম্পানিতে কাজ না দিয়ে তারা আমাকে বাসা বাড়ির কাজে লাগিয়ে দেয়। প্রায়ই চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে অনেক মারধর করে। পরে জানতে পারি আমাকে ৩ মাসের জন্য ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।’কান্না জড়িত কণ্ঠে নিজের দুঃখের কথাগুলো এভাবেই বর্ণনা করছিলেন গৃহবধূ সাবিনা। স্বামী কুদ্দুস বাসের হেলপার।অসহায় দরিদ্র পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে গত ৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে পাড়ি জমান সাবিনা। সংসারে অসুস্থ বাবা ও ৫-৬ বছরের ছেলে রেখে দালালের মাধ্যমে সৌদি যান এই নারী।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাবিনার বাড়িতে গেলে তার মা বলেন, আমার মেয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে কুঠিপাড়া বড় ড্রেন এলাকার রাইজুলের স্ত্রী হালিমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সৌদি যান কোনো টাকা পয়সা খরচ ছাড়ায়। হঠাৎ গত কয়েকদিন আগে ফোনো দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ফোনে সে আমাদের বলে, তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে দালালরা। না পেলে তাকে মেরে ফেলবে। আর তা না হলে অত্যাচারের কারণে তাকেই আত্মহত্যা করতে হবে। মেয়েকে বাঁচাতে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেছি। কিন্তু কেউই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হালিমা বলেন, ‘আমি ৫ হাজার টাকা কমিশনে মানুষ পাঠায়, পরবর্তীতে কী হয় সে ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি যার কাছে পাঠায় তার নাম মোস্তাফা। অফিস ঢাকায়। এর বেশি কিছু জানি না। আমি কাউকে পাঠালে সে আমাকে ৫ হাজার টাকার বেশি দেই না।

সাবিনার বিষয়ে জানতে চাইলে হালিমা বলেন, গত ৫ জানুয়ারি আমি তাকে পাঠিয়েছি। এরপর সেখানে কী হয়েছে কিছুই জানি না। কিন্তু পরে পরিবারের লোক এই ব্যাপারে জানালে আমি দালালের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। সে আমাকে বলে তাকে ফেরত চাইলে ১ লাখ টাকা লাগবে।

হালিমার মাধ্যমে মোবাইলে কথা হয় দালাল মোস্তফার সঙ্গেও। মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার এজেন্সির নাম বাংলাদেশ এক্সপোর্ট কর্পোরেশন, রেজিঃ নং-৮০৩। আমি এখানে এজেন্ট হিসেবে কাজ করি। আমার সঙ্গে এম্যালি নামে কুষ্টিয়ার এক মেয়ের যোগাযোগ হতো। সে আমাদেরকে বিভিন্ন সময় কাজের মেয়ে সাপ্লাই দিয়ে থাকে। আমাদের এজেন্সির চেয়ারম্যানের নাম হাসান। সৌদি আরব যেতে যাত্রীর যে খরচ হয়েছে তা পরিশোধ করে দিলেই সাবিনা দেশে ফিরে আসতে পারবে।

এ ব্যাপারে ওই এজেন্সির চেয়ারম্যান দাবিদার হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদেশে গিয়ে যখন ভালো না লাগে তখন বাড়ি আসার জন্য এধরনের অজুহাত দেখায়।’নির্যাতনের বিষয়টি মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ছাড়া তার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

Share Button