সুনামগঞ্জ-২ আসনের মানুষের জীবন মান বদলে দিতে চান মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন

মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি : মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো নেতাদের হাত ধরে সুনামগঞ্জের রাজনীতি গৌরব ছড়িয়েছে দেশের সর্বত্র। ৫টি আসনের নির্বাচনী এই এলাকা সিলেট বিভাগের অন্যতম রাজনৈতিক আকর্ষণ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ দিচ্ছেন এই অঞ্চলের নেতাকর্মীরা। তেমনি সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন আওয়ামী পরিবারে সন্তান স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন।

মাহবুব হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ভাটি বাংলার গরিব অসহায় ও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠা মাহবুব ছোটবেলায় দাদা আলহাজ্জ আব্দুল কাদিরকে দেখেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে কাজ করতে। বাবা-চাচাকেও একই পথে হাঁটতে দেখেছেন যুগের পর যুগ। পূর্বপুরুষদের দেখিয়ে যাওয়া পথ দিয়ে মাহবুব হোসেন হাঁটছেন বহুবছর। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বদলে দিতে চান দিরাই-শাল্লার মানুষের জীবন মান। একান্ত আলাপচারিতায় মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন তার মনের সেই বাসনা।

নিজের সম্পর্কে মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সপক্ষের পরিবারের সন্তান আমি। ৩ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। স্ত্রী শাহানারা আলীকে সাথে নিয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে দাম্পত্যের পথ চলায় রেজওয়ান রিমা নামের কন্যা সন্তানটিই আমাদের একমাত্র অর্জন।

মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সিলেট এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই ছাত্র জানান, মুক্তিযোদ্ধের সময় আমি ক্লাস সিক্স/সেভেনে পড়ি। সেই সময় আমার মামা মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দোলন ও তাঁর সহযোদ্ধাদের বন্দুকের গুলিসহ বিভিন্ন রকম যুদ্ধপোকরণ সরবরাহ করেছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ধান-চাল, শুকনো খাবার সংগ্রহ করেছি। সংগৃহীত খাদ্যসামগ্রী জীবনের ঝুকি নিয়ে পৌঁছে দিয়েছি মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে। সেই অর্থে আমিও মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু কখনো আমি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করিনি। নেইনি সরকারের বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা।

মাহবুব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার দাদা মৃত আলহাজ্জ আব্দুল কাদির স্থানীয়দের নিয়ে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আমার বাবা ৭০-এর নির্বাচনে যুক্তফ্লন্টের গণজাগরণ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সংগঠিত করেন। তারপর ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে চাচা সিরাজুল ইসলামসহ এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে পাঠান। পারিবারিকভাবে আমরা বঙ্গবন্ধু ও আয়ামী লীগের নৌকার জন্য জনমত সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছি। যার ফলে ভাটি বাংলায় প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বার বার বিজয়ী হয়েছেন।

স্বাধীনতার পূর্বে নিজের পারিবারিক ভূমিকা সম্পর্কে মাহবুব হোসেন বলেন, ১৯৫৪ সালে পাকিস্থানের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালিন যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদকে সাথে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন। জনমত গঠন করেন। ফিরে যাবার আগে বঙ্গবন্ধু সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন।

প্রচারবিমুখ মাহবুব বলেন, আমি কখনো নিজের সেবামূলক কাজের প্রচার করিনি। আমার কাছে কর্মটাই আসল তাই ১৯৮৩ সালে আমি কুয়েতে গিয়ে ব্যবসা শুরু করি। প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকার মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আমি বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে আমি বিগবাজেটের একটি সিরামিক ইট তৈরীর প্রজেক্ট শুরু করেছি যাতে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮শত মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

দেশে ছাত্র রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত না হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সৈনিক হিসেবে উপমহাদেশের সফল রাষ্ট্র নায়ক জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথেই আমি নিজেকে পরিচালিত করেছি। কুয়েতে আমি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেছি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগই সরকার গঠন করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহবুব হোসেন বলেন, জনগণের রায় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পর পর দু’বার সরকার গঠনের কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত নানা প্রকল্প দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। তাই এই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এক কথায় বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার আওয়ামী লীগ।

লীয় মনোনয়ন বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী মাহবুব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অংশ নিতে চাই। কেননা স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানকার জনসাধারণের জীবন মান উন্নত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, যাতায়াত, স্বাস্থ্য, বিধবা, বয়স্ক, ছিন্নমূল শিশু, তাঁতী, জেলে, কৃষক, শ্রমীক এবং স্থানীয় জনতার সমস্যা অনুযায়ী সমাধানে কাজ করে যাবো।

মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহন করার মত মন-মানসিকতা, জনসমর্থন, আর্থিক স্বচ্ছলতাসহ সকল প্রস্তুতি আমার আছে। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড দলছুট-হাইব্রীড নেতাকর্মীদের চাইতে দলীয় ত্যাগী ও ক্লীন ইমেজের নেতাকর্মীদের প্রতি সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখেন। তারপরও যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয় তাহলে দলের প্রতি অনুগত থেকে দলীয় সিদ্ধান্তকেই সম্মান দেখাবো। কেননা আমাদের মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ বিভাজনে বিশ্বাসী নয়।

দিরাই-শাল্লায় আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত নানারকম অনুষ্ঠান আয়োজন করছি এমন দাবি করে মাহবুব হোসেন বলেন, তৃণমূলের নেতা কর্মিদের ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি। বিভিন্নরকম খেলাধুলা, শিক্ষা-বৃত্তির আয়োজনের পাশাপাশি সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার এলাকার প্রত্যেক ঘরে ঘরে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা পৌছে দিচ্ছি। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নতুনদের মধ্যে জাগরণ তৈরীতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছি।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে আপনি নির্বাচিত হলে প্রথমে কোন কাজটি হাতে নিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। এ অঞ্চলের মানুষ দেশ গড়ার কাজ দেশ বিদেশে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য জেলার মত তেমন উন্নত নয় তাই আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই সুনামগঞ্জের সাথে দেশের অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে কাজ শুরু করবো। তাছাড়া ‘সংস্কৃতির চারণভুমি’ হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমসহ বহু বাউল সাধক, করমী কবির জন্ম হয়েছে। তাই এই জেলায় একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুনামগঞ্জতো বটেই বাংলাদেশের সকল প্রকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রয়াস চালানো হবে। সংরক্ষণ করা হবে বিলুপ্তপ্রায় বাংলার গৌরব।

নিরবে-নিবৃতে জনসেবায় আত্মনিবেদিত আওয়ামী লীগের এই সৈনিক ৫ বছরের একটি সুযোগের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন বিশাল ভোট ব্যবধানে জয়ী হবেন। এটি তাঁর অনুমান নয়, জনতার প্রতি বিশ্বাস।

Share Button