সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ আজ

ডেস্ক রিপোর্ট  : দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ রোববার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং সারাদেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ করবে বিএনপি। গতকাল (শনিবার) সকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগরীতে থানায় থানায় এবং অন্যান্য মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিজয় দিবসের এই মাসে আমাদের অফিসের সামনে আবার সেই প‚র্বাবস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ, র‌্যাব এবং ভয় দেখানোর যত রকম প্রক্রিয়া থাকে, তারা তা অবলম্বন করছে। বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি: মহান বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মস‚চিগুলো হচ্ছে- ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ। ১৫ ডিসেম্বর বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ ও পরে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ ও ফাতে হা পাঠ। ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা এবং বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। এছাড়া বিজয় দিবসের দিন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা করবে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে তারা পোস্টারও প্রকাশ করবে।

কর্মস‚চি ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে স্বাধীনতার প্রায় ৪৯ বছর পরও একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা পাইনি। বার বার একটি মহল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দলটি (আওয়ামী লীগ), যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের হাতে বার বার গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমরা আবারও দেখছি, একই কায়দায় ক্ষমতার জোরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় বসে আছে। গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। আসুন এই বিজয়ের মাসে আমরা এই শপথ গ্রহণ করি, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমরা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব। আমাদেরকে এজন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, আকম মোজাম্মেলন হক এবং অঙ্গসংগঠনের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আনোয়ার হোসেইন, হুমায়ুন কবির খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, মামুন হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, এজিএম শামসুল হক, বেল্লাল হোসেন, এবিএমএ রাজ্জাক, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, হেলাল খান, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, শাহ নেছারুল হক, সেলিম রেজা, আবুল কালাম আজাদ।

সূত্র : ইনকিলাব

Share Button