শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চলছে দ্রুতগতিতে

মোঃ বায়েজিদ হোসেন, শেরপুর, মৌলভীবাজার: ২০২০ সালের শুরু থেকে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম। সিলেট বিভাগের প্রথম এ অর্থনৈতিক জোন চালু হলে ৪৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষমাত্রা ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রের তথ্য থেকে জানা গেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা’র চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সুত্রে জানা যায়, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে শতভাগ রপ্তানিমুখী। ইতোমধ্যে এখানে ১৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের চার জেলার মিলনস্থল মৌলভীবাজারের শেরপুরে সিলেট বিভাগের প্রথম অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে সিলেট-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে শেরপুর ও ব্রাহ্মণগাঁও মৌজার ৩৫২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরপর থেকে প্রকল্প এলাকায় পুরোদমে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারনে কাজের গতিবেগ শ্লথ ।  পুরো এলাকায় মাটি ভরাট কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্যে ইতোমধ্যে ডিআরএস টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে ৷জালালাবাদ গ্যাস টেন্ডার পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মূলত অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে সিলেট বিভাগের প্রথম এই অর্থনৈতিক অঞ্চল ৷
জানা যায় ,৩৫২ একর জমির মধ্যে এ পর্যন্ত ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২৩৮ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাকি ১১৪ একর জমিতে জলাধার ও রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ডিবিএল গ্রুপ ১৭০ একর, আয়েশা ক্লথিং ৭ একর ও আসওয়াদ কম্পোজিট ৭ একর। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পলমল গ্রুপ। গ্রেটওয়াল সিরামিক ২৫ একর, ডাবল গ্লেজিং ৩ একর, আব্দুল মোনেম সিরামিক ২১ একর ও ওরিয়ন গ্রুপকে ৫ একর জমি দেয়া হয়।
ডিবিএল  গ্রুপ বরাদ্দ প্রাপ্ত জমিতে ফ্লামিঙ্গো ফ্যাশন ২০টি কারখানা স্থাপন করবে। এই গ্রুপটি বিনিয়োগ করবে ১১৮ কোটি ডলার। ২০ কারখানায় কর্মসংস্থান হবে ৩৮ হাজার মানুষের। এখানে উৎপাদিত পণ্যের পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি হবে। গ্রুপটি বার্ষিক রপ্তানী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩৩৩ কোটি মার্কিন ডলার। আয়েশা ক্লথিং কোম্পানিতে কর্মসংস্থান হবে ২ হাজার ১০০ জনের। তাদের বার্ষিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এ কোম্পানি ৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়াও আসওয়াদ কম্পোজিট ৩ কোটি ডলার, গ্রেটওয়াল সিরামিক ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ও ডাবল গ্লেজিং ৮১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আগামী  ২০২০ সালের শুরু থেকেই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে পণ্য উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে এমন টার্গেট নিয়েই বর্তমানে কাজ চলছে। এজন্যে আগামী জানুয়ারিতে অবকাঠামোগত কাজ বিশেষ করে কারখানার কাজ ব্যাপকভাবে শুরু হবে। ইতিমধ্যে ডিবিএল গ্রুপ তাদের মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ৷ তবে বালি ভরাটের বিলম্বের কারনে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে বলে জানা যায় ৷
এদিকে ২০০৫ সালে সিলেটে অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের দাবি তুলেছিল সিলেট চেম্বার। তাদের যুক্তি ছিল, এটি হলে সিলেটের প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো সিলেটী বা প্রবাসী উদ্যোক্তা জমি বরাদ্দ পাননি। এ নিয়ে প্রবাসীদের সাথে কোনো মতবিনিময় হয়নি বলেও জানান সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। তিনি জানান, শেরপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু জমি বরাদ্দের ব্যাপারে সিলেট চেম্বারকে জানানো হয়নি। এমনকি সিলেটি উদ্যোক্তাদেরও সম্পৃক্ত করা হয়নি। অথচ আমরাই প্রথম এই দাবি তুলেছিলাম।
মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি ও শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন পর্ষদের সদস্য কামাল আহমদ বলেন, মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের শেষের দিকে উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই টার্গেট নিয়েই কাজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই জোনটি চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে আরো গতি আসবে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, অধিগ্রহণকৃত জমি ভরাটের পর ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করবেন। দেশি বিনিয়োগও বাড়বে। তিনি জানান, আমরা কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। এই জোনটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা’র চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, প্রায় শতভাগ রপ্তানিমুখী এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি যথাসময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। এখানকার পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৩৫২ কোটি ৬৯ লাখ ডলার অর্জিত হবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, এই অঞ্চল চালুর ফলে সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতিতেও আরো পরিবর্তন আসবে ৷

এ বিভাগে আরোও আছে

উৎপাদন কম: কেজিতে চায়ের দাম বৃদ্ধি ৬৫-৮০ টাকা
রুপির বিপরীতে নজিরবিহীন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে টাকা!
রেল লাইন ও বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

Share Button