শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দিয়েছেন মা!

অভাব–‌অনটনের জেরে নিজের সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে দু’‌লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে ভারতের রঘুনাথগঞ্জ এক নম্বর ব্লকের রাজনগরে।

জানা গেছে, বীরভূমের মুরারইয়ের বাসিন্দা কাজেম শেখ। পেশায় বিড়ি শ্রমিক। কাজেম শেখের বছর পাঁচেক আগে বিয়ে হয় সামশেরগঞ্জের চাঁদপুরের বাসিন্দা শুকতারা খাতুনের (২১)। তাদের একটি বছর চারেকের পুত্রসন্তান রয়েছে। অভাব আর অনটন তাদের সম্বল। শেখ দম্পতি দু’‌জনে বিড়ি বেঁধে কোনওক্রমে টেনেটুনে সংসার চালাতেন। এরই মধ্যে শুকতারা বিবি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন। মাস কয়েক আগে কাজেম মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। চিন্তায় পড়ে যান শুকতারা।

শুকতারার মামা কুতুবুদ্দিন শেখ রঘুনাথগঞ্জের রানিনগরের বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি। কুতুবুদ্দিনের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। তাঁরা নিঃসন্তান। ভাগনি শুকতারার অভাবের কথা ভেবে কুতুবুদ্দিন শেখ কিছু টাকা দিয়ে তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। শুকতারা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।

 মঙ্গলবার সন্ধেয় শুকতারা রাজনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। বুধবার সকাল সাতটায় একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এদিকে লোক মারফত রঘুনাথগঞ্জের বহুরা গ্রামের এক বাসিন্দা খবর পেয়ে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন শুকতারার কন্যাসন্তানকে কিনতে। দু’‌ লক্ষ টাকা সদ্যোজাত শিশুকন্যার দাম রাখা হয়।

অভিযোগ সেই ব্যক্তিটি শুকতারাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আনতে বাড়ি যান। মামা কুতুবদ্দিন শেখ বিষয়টি জানতে পারলে সদ্যেজাত কন্যাটিকে নিজের হেফাজতে রাখার দাবি করেন। এ নিয়ে শুরু হয় বচসা। বচসার জেরে বিষয়টি নজরে আসে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের। তিনি শিশু বিক্রির খবরটি জানান রঘুনাথগঞ্জ এক নম্বর ব্লকের বিডিও সৈয়দ মাসিদুর রহমানকে। অভিযোগ মেলার পর নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন।

শুকতারা খাতুন জানান, স্বামী পাগল হয়ে কোথায় চলে গেছে!‌ খুবই অভাবের মধ্যে পড়েছি। খুব কষ্টে দিন চলে। অভাবের কথা ভেবে নিঃসন্তান মামিকে কিছু টাকার বিনিময়ে সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলাম।

তথ্যসূত্র : আজকাল

Share Button