লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চা শিল্প: প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিন্ধান্তে

বিক্রমজিত বর্ধন, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের উৎপাদিত চা দিয়েই পুরণ হয়ে থাকে দেশের অধিকাংশ মানুষের চায়ের চাহিদা। তাই করোনাকালে সরকারের বিচক্ষনতায় বন্ধ রাখা হয়নি দেশের চা বাগানগুলো।

আমাদের সঙ্গে থাকুন- পেজ এ লাইক দিন

এর ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চা শিল্প। আর করোনার স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল রয়েছে দেশের চা বাগান গুলো। এমন প্রেক্ষাপটে করোনাত্ব কালে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে সহায়ক হবে চা খ্যাত। চলমান বৃষ্টিতে সবুজকুড়ি তেভরে গেছে চা বাগান, অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় বাগান গুলো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন চা বিজ্ঞানিরা।
দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগানের সংখ্যা মৌলভীবাজার জেলায়। করোনা ঝুঁকির মধ্যে চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিশেষ কৌশল অবলম্বন কওে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন অভ্যাহত রেখেছেন। অক্লান্ত চেষ্টা ও শ্রম দিয়ে বাগান সজিব করে রেখেছেন শ্রমিকরা। এপ্রিলে বৃষ্টিপাতে সবুজ কুড়ি তেভরে উঠেছে চা বাগান গুলো। দু’হাত ভওে পাতা তুলছেন শ্রমিকরা। এতে এই করোনা আতংকের মধ্যেও শ্রমিকদের আনন্দের শেষে নেই।
শ্রমিক নেতারা জানান, দেশের ১৬৬টি চা বাগানসহ মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি বাগান বন্ধ না রাখায় চা বাগানগুলোতে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ। দেশে সাধারণছুটি ঘোষণা করলেও চ াবাগানে সবেতন ছুটি দেওয়া হচ্ছেনা। এতে ভয়ের পাশাপাশি দানা বেঁধে উঠছে ক্ষোভ।

বাগান কতৃ পক্ষরা জানান, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের গেট সব সময় বন্ধ থাকছে । আর গেটের পাশে রয়েছে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ার ব্যবস্থা। চা গাছের পাতা চয়ন এমনিতেই বিশাল ব্যবধানে হয়ে থাকলেও এখন রয়েছে আরো কড়া করি। পাতা তুলার সময় মূখে রয়েছে মাস্ক। দুপুরের খাবারের সময় সেকশনেই ব্যবস্থা করা হয়েছে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ার ব্যবস্থা।

এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতংকে চা শ্রমিক ইউনিয়ন চা বাগান মজুরীসহ ছুটি দেয়ার দাবীতে কর্মবিরতীসহ আন্দোলন করলেও চা বাগান কতৃপর্ক্ষ বলছেন নিয়ম অনুযায়ী পাতা না উঠালে পাতা শক্ত হয়ে যাবে এতে গাছেরও ক্ষতিহবে। চা পঁচনশীল দ্রব্য। আর শ্রমিকরা কাজ করার সময় একত্রিত হওয়ার সুযোগ নেই বরং তারা লেবার লাইনে একত্রে থাকে। তারা সেখানে একত্রিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট ভারতে চা বাগান বন্ধ দেয়ায় গাছের পাতা বড় হয়ে চা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে তাই তা ছেঁটে ফেলে দিতে হচ্ছে।

চা বাগান গুলোতে চা শ্রমিকরা সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মদের দোকান (পাট্টা) ও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এমন বাস্তবতায় কর্মরত চা শ্রমিকরা করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন।
চা বিজ্ঞানীরা বলছেন অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছরও রেকর্ড পরিমান চা উৎপাদন হবে। করোনা দূর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর বিশ্বেও মন্দা অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে চা শিল্প।

আরোও খবর >>>>>

মৌলভীবাজারে প্রথম বারের মতো হলুদ তরমুজের চাষ
তাড়াশে জলাবদ্ধতায় কৃষকের ধান পানির তলে

Share Button