লন্ড‌নে মৌলভীবাজারীর নামে ভিক্ষ‌াবৃত্তি-জনপ্র‌তি‌নি‌ধি‌দের প্র‌তিবাদ

এস এম মেহেদী হাসান: লন্ড‌নে মৌলভীবাজারীর নামে ভিক্ষ‌াবৃত্তি’র ঘটনায় স্থানীয় জনপ্র‌তি‌নি‌ধি‌রা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনেকেই তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজার টুডে ডটকম এবং দেশপক্ষ ডটকম এ প্রকাশিত এস এম মেহেদী হাসানের লেখা “ মৌলভীবাজারের বন্যা কবলিতরা ভিক্ষা চায় না” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী’র লেখা “ মৌলভীবাজা‌রের বন্যা ও লন্ড‌নে‌র টিভি‌তে ভিক্ষা তোলা” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায়   প্রচারিত হওয়ার পরপরই মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগসহ দেশে-বিদেশে  তোলপার সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার যে পরিমাণের ত্রান বিতরণ করছে, তাই যথেষ্ট। তারপরও আমাদের স্থানীয় এবং প্রবাসীরা নিজ উদ্যোগে বন্যার্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন। লন্ডনের কয়েকটি বাংলা টেলেভিশনে মৌলভীবাজারের বন্যার্থদের জন্য চ্যারিটি অাপিলের মাধ্যমে লিল্লাহ বা ভিক্ষা তুলছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর। আমরা ভিক্ষার ঝুলি হাতে নেইনি। যারা এগুলো করছে, তারা তাদের নিজেদের জন্য করছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের মৌলভীবাজারের বানবাসী মানুষদের নাম বিক্রি করছে। এটা বন্ধ করা প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমরা এতোটাই গরীব নয় যে, আমাদের জন্য ভিক্ষা করতে হবে। যারা মৌলভীবাজারের বন্যার্থদের সাহায্যের নামে ভিক্ষার সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। তাদের ধীক্কার জানাই। আমাদেরকে পুঁজি করে, নিজেদের পকেট ভারী করতেছে। এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

জুয়েল আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্যে গিয়ে কোন না কোন ইস্যু নিয়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আছে কিছু ধান্ধাবাজ। এটা তাদের পেশা। ভালো কথা। কিন্তু মৌলভীবাজারের বন্যা দুর্গতদের জন্য ভিক্ষা চাওয়ার অধিকার তাদের নেই। কে বলছে, তাদেরকে লিল্লাহ বা ভিক্ষা তুলার জন্য। কেউ তাদের বলেনি। নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভিক্ষা ব্যবসা করছে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ। লজ্জা নেই। ওদের থাকবে কোথা থেকে। লজ্জাহীন লোকের লজ্জা কি?। এটা না করলে, দেশে এসে দামী গাড়ী দৌড়ানো সম্ভব নয়।

একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

Amdadul Haque স্ট্যাটাস দিয়েছেন, 

আমরা এখন লন্ডনের অমুক চ্যানেলের লাইভ অ্যাপিলে (ভিক্ষা চাইতে) এসেছি!!
দেশবিদেশের সকল বিত্তবানরা আপনাদের সংগঠন, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে মৌলভীবাজারের বন্যার্তদেরকে _____ দিন!!!

PLEASE JOIN US A LIVE EMERGENCY APPEAL (begging) TO PROVIDE SUPPORT AND ASSISTANCE at the channel ____ TO THE FLOOD VICTIMS IN MOULVIBAZAR.!

(মৌলভীবাজারের কথা বলে এমন ভিক্ষাবৃত্তির দুঃসাহস তোমাদেরকে কে দিলো?)

প্লিজ, স্টপ দিস।

Jahed Ahmed Chowdhury জুতা মারা দরকার। 

Mamun Abdullah নিজের প্রকেট ভারি করার চেষ্টা।

Ali Surug মানুষ কেন এমন প্রতারক হয়।মানুষ কেন আল্লাহকে ভয় করেনা।

Amdadul Haque  স্ট্যাটাস- 

দেশেবিদেশে ডিজিটাল লুটেরা ভিক্ষুকদের খুব শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওদের রুটিরুজিতে পানি ঢালা শুরুর পর থেকে ওরা প্রায় মাতাল।
তাই দেশবিদেশ থেকে হোয়াটসআপ ও ফেসবুকে মাতলামি পোস্ট দিচ্ছে তাদের কিছু চুনোপুঁটি। সচেতন পাঠক/দর্শক, আপনারা আমজনতাকেও একটু সচেতন রাখুন।

Journalist Giash Ahmed ইতায় নু থুরা থুরা পাইন, এর লাগি নাচানাচি কররা

Humayun Kabir কমেন্ট করেছেন, সাময়িক একটা সমস্যা সেরে যাবে কিন্তু ভিক্ষা চাওয়ার মত পরিস্থিতি এখনও হয়নি। আর যারা এটাকে কেন্দ্র করে ভিক্ষা করে সেত আসলেই ভিক্ষুক।  এখন বাড়তি একটা  সুযোগ হয়তো কাজে  লাগার।

Saiduzzaman Rassel ভাই কয়লা ধুইলেও ময়লা যান। লণ্ডন না মঙ্গল গ্রহে গেলেও এদের অভ্যস বদলাবে না।

Humayun Kabir এই লেখার জন্য আপনাকে ধন্য বাদ সবাই বলে মৌলবী বাজার ধনী জেলা আর এগুলা করে তো ধনী জেলার মান মারতাছে।

Muhammad Kabir ভন্ডদের মুখোশ উন্মোচিত হউক। যারা এধরনের ভন্ডামী করে তাদেরকে ধরে ধরে মার দেওয়া দরকার।

Harun Ahmed Harun আমরা সিলেটি আমরা ভিক্কা চাই না ভিক্কা দেই।

আবুবককর ভাল মন্তব্য করেন, ভিক্ষাবাজরা কোন ইস্যাু পেলেই, কাজ শুরু করে দেয়। লন্ডনে এটা তাদের পেশা হয়ে দাড়িঁয়েছে। কিন্তু মৌলভীবাজারবাসীর এমন কি হলো, তোমরা মৌলভীবাজারের জন্য ভিক্ষা তোলার আয়োজন করলে। ধীক্ষার জানাই তোমাদের এ কর্মকান্ডে।

 

এছাড়াও অনেকেই কমেন্ট করে এর তীব্র প্রতিবাদ ্ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, লন্ডনে বেশ কয়েকটি বাংলা টেলভিশন চ্যানেলে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বসে আছে। তারা মৌলভীবাজারবাসীর জন্য চ্যারেটি অপিলের মাধ্যমে লিল্লাহ ফান্ড এর আযোজন করেছে। ২০ এবং ৩০ পাউন্ড করে আদায় করছে। এ নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত অন্যান্য জেলার লোকজন হাসি-তামাশা করছে মৌলভীবাজারবাসীদের নিয়ে। এবং বলাবলি করছে, মৌলভীবাজারী এতো দিন বলেছিল, তারা স্বাবলম্বী। তাহলে তাদের জন্য ভিক্ষা তোলা হচ্ছে কেন?। এমনকি মৌলভীবাজার শহরের লোকজনের জন্যও।

প্রিয় অনুজ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরীর একটি লেখা পড়ে জানতে পারলাম। বিষয়টি আরোও জানার ইচ্ছে হলো। এক বন্ধুর মাধ্যমে দু’টি টিভি চ্যানেল দেখতে পেলাম। দু’টি চ্যানেলই চ্যারিটি অপিলের মাধ্যমে ভিক্ষার ঝুলির অনুষ্ঠান চালাচ্ছে। মুনজের যা লেখেছে, তা সত্যি।

ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে কল করলাম। রিসিভ করলেন, এক টেলিভিশনের “ভিক্ষার ঝুলি বা লিল্লাহ আদায়” অনুষ্ঠানের সঞ্চালক।

প্রথমে ইংলিশ, পরে বাংলায় তাদের প্যাকেজ ২০ এবং ৩০ পাউন্ড ভিক্ষার আবেদন। এ সময় অতিথি হিসাবে বয়ান করছেন আমার সুপরিচিত এক মৌওলানা।

নিজের নাম- পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম, কি পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করছেন, তা বলতে রাজি নয়। একটি নাম্বার দিয়ে বললেন, সেই নাম্বারে ফোন দিয়ে বললেন, সেখানে ফোন দিয়ে  জানার জন্য।

কিন্তু তাদের কাছেই জানতে চাইলাম, আপনারা কোন সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করছেন বা করবেন। সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

বললেন, এখন লাইভে আছেন। ফোন বিজি করে রাখলে Problem।

মঙ্গলবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিট।

তাদেরকে প্রশ্নই করতে থাকি। অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে লাইন কেটে দেন।

আরোও পড়ুন

মৌলভীবাজারের বন্যা কবলিতরা ভিক্ষা চায় না

Share Button