রয়টার্স সাংবাদিকদের দণ্ডে মিয়ানমারের গণমাধ্যমের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাত বছর করে কারাদণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বেশ কিছু গণমাধ্যমসহ সুশীল সমাজ। তারা বিষয়টি তথ্য স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন ইয়াঙ্গুন উত্তর জেলা বিচারক ইয়ে লুইনের আদালত। যদিও ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে (২৮) নামে দুই সাংবাদিক প্রথম থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মিয়ানমারের সর্বাধিক পঠিত একটি পত্রিকাসহ সাতটি বেসরকারি দৈনিক তাদের প্রথম পাতায় এ রায়ের প্রতিবাদে কালো ব্লক প্রকাশ করে। রায়ের দিনটিকে ‘মিয়ানমারের জন্য কালো দিন’ শিরোনামে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সম্পাদকীয় প্রকাশ করে পত্রিকাগুলো।

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করবে ও মূল্য দেবে এ আশা শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়াও আগের সামরিক সরকারগুলোর মতোই গণমাধ্যমের ওপর চাপের প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় সেখানে।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এটা সবার জানা দরকার যে, তথ্যের অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে কোনো গণতন্ত্র টিকতে পারে না।

তবে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের রায়ের বিষয়ে দেশটির সরকারের মুখপাত্র জাও হিতায় কোনো মন্তব্য করেননি।

যিনি সামরিক শাসনামলে কারাবন্দি থাকা দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ইররাওয়াদ্দির’ সম্পাদক কিয়াও জোয়া মোয়ে বলেন, রয়টার্সের দুই রিপোর্টার যা করেছেন তাতে ভুল কিছু নেই। সত্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে যেকোনো সাংবাদিকই তথ্য সংগ্রহে এ ধরনের কাজ করে থাকেন।

দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘মিয়ানমার টাইমস’ সাংবাদিক কিয়াও সোয়ে’র সাদা কালো ছবিসহ প্রথম ও শেষ পাতা সাদা কালো প্রকাশ করেছে।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে তথাকথিত আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনীর চৌকিতে হামলার অভিযোগ তুলে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। এই প্রেক্ষাপটে প্রাণে বাঁচাতে পরদিন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় লাখো রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের সেই ঢল এখনও থামেনি।

আগে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও এ দফায় সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। অনেক মানবাধিকার সংস্থার মতে, এই এক বছরে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা ও ধর্ষণ করা হয়েছে।

এই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূলাভিযানের পাঠ্য বইয়ে উল্লেখের মতো উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। এমনকি সম্প্রতি এজন্য দায়ী মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফসহ শীর্ষ জেনারেল ও কর্মকর্তাদের বিচার হওয়া উচিত বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জীবনে এমন কালো অধ্যায় নামিয়ে সমালোচিত হলেও এক বছরের মাথায় পেশাদার দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়ে মিয়ানমার বৃদ্ধাঙ্গুলিই দেখালো বিশ্ব সম্প্রদায়কে।

সূত্র : বাংলানিউজ

Share Button