রেল লাইন ও বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

প্রতিদিন২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দুটি রেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এবং ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন সেকেন্ড ব্লকের উদ্বোধন করেছেন।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বহু বছর ধরে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ‍সুনাম ও বিশ্বাসের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আজ পরিপক্কতা পেয়েছে। অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। আমার বিশ্বাস, দুই প্রতিবেশী দেশের এই সম্পর্ক বিশ্বের অন্যান্য অংশের মানুষের জন্য রোল মডেল হিসেবে গণ্য হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াট। মমতা ব্যানার্জী আমাদের আরও ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে চেয়েছেন। আশা করি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি জি তাতে কোনো আপত্তি করবেন না।

উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। নতুন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের সরকারি খাত ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ থেকে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের বেসরকারি খাত ‘পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন’ থেকে।

তিনি বলেন, রেলওয়ে খাতেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বয় ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা শিগগির ভারতের অর্থায়নে যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে ডুয়েল গেজের ট্র্যাক নির্মাণের ভিত্তিফলক স্থাপন করতে পারবো।

প্রসঙ্গত, রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচের একটি বড় অংশ মেটানো হবে ভারতের এক বিলিয়ন ডলার ঋণের অংশ থেকে।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ১০ কিলোমিটার পড়েছে  বাংলাদেশে।

ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় বলেন, আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম। আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। বর্তমান সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ইতিহাসের ‘সোনালি অধ্যায়’।

ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু যুক্ত হন।

Share Button