রাজনগরে চেয়ারম্যানের হাতে লাঞ্চিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম

ছবি: মশাহিদ আহমদ

তানভীর আঞ্জুম আরিফমৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত এর হাতে একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম (৭, ৮ ও ৯) লাঞ্চিত হয়েছেন।

এঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলছেন চেয়ারম্যান তাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছেন। এঘটনায় তিনি রাজনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে চেয়ারম্যানের সাথে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের গভীর সখ্যতা থাকায় অনেকটা বেপরোয়া হয়েয়ে উঠেছেন তিনি। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

তিনি আরোও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন বখত স্বেচ্ছাসারী স্বৈরশাসকের মতো। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি ত্রাণ অনুদান আসিলে তিনি তার ইচ্ছামতো ইউপি সদস্যকে ও গ্রামের বিভিন্ন মানুষকে ইচ্ছামতো বন্টন করে ও তাঁর নিজের পালিত একটি বাহিনীকে একাধিকভাবে দিয়ে থাকেন।

লিখিত বক্তেব্যে ইউপি সদস্য বলেন,  এই নিয়ে ইউপি সদস্যদের ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। করোনা উপলক্ষে সরকারি, বেসরকারি ও প্রবাসীদের পাঠানো নগদ অর্থ আত্মসাৎ করছেন। কিন্তু প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হয়। যারা প্রতিবাদ করেন সেই সদস্যদেরকে ত্রাণ বিতরণের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। অত্র ইউনিয়নের ত্রাণ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে চেয়ারম্যান এর মনোনিত ব্যক্তিদেরকে নিয়ে কমিটি গঠন করেন। কাবিকা, টিআর, ফেসিলেটি সহ বিভিন্ন কাজগুলো কমিশনের মাধ্যমে তাঁর মনোনিত ইউপি সদস্যদেরকে দিয়ে থাকেন।

এই বিষয় নিয়ে ইউ.পি সদস্যদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন, উত্তরাধিকারী, প্রত্যয়ন পত্রসহ বিভিন্ন ধরনে কাগজাদি দুর্নীতি করে থাকেন। সালিশের নামে বড় অঙ্কের টাকা জমা নেওয়া হয় সেই টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করে ফেলেন। এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করতে পারেন না, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

বিগত ২২/০৫/২০২০ইং তারিখ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমাকে ২০ জন ত্রাণ গ্রহণকারী লোকের নাম দাখিলের জন্য বলেন। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে আবার আমাকে জানান, ৩০ জন এর নাম দেওয়া যাবে। আবার আরো কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে বলেন, ৩০জন নয় ২০ জন এর নাম দিতে হবে। আমি সচিবকে এভাবে বারবার ভিন্ন কথা বলার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে সচিব আমাকে জানান যে, চেয়ারম্যান মিলন বখত এর নির্দেশে বার বার তালিকা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

বিগত ২৩/০৫/২০২০ইং তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১০টার সময় ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ বিতরণের জন্য আসি এবং পরিষদের সচিবের কক্ষে বসে ত্রাণ গ্রহণকারী লোকের মাষ্টার রোল কপি সংগ্রহ করে দেখার সময় চেয়ারম্যান মিলন বখত আসিয়া ঘটনাস্থলে আমাকে চেয়ারে বসা দেখিয়া উত্তেজিত হয়ে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকেন।

আমি প্রতিবাদ করিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার তলপেটে লাথি মেরে চেয়ার থেকে নিচে ফেলে দেন। এ সময় আমি প্রাণ রক্ষার্থে ঘটনাস্থল হইতে দৌড়ে বাহিরে চলিয়া যাই। স্থানীয় জনসাধারণের জন্য ত্রাণ বিতরণের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দাড়িয়ে পড়ি। তখন চেয়ারম্যান মিলন বখত এর হুকুমে তাঁর পালিত সন্ত্রাসী পরকিছ মিয়া, পিতাঃ কন্টু মিয়া, সাং পরচক্র, ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদ, সাং তাহারলামু, ডাকঃ মনসুরনগর, উপজেলাঃ রাজনগর, জেলাঃ মৌলভীবাজার। অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে নিয়ে এসে আমাকে মারপিট করতে থাকেন এবং আমার চুল টেনে ধরে কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতা হানি করেন।

আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেয়ারম্যান মিলন বখত এর হুকুমে পরকিছ মিয়া আমার গলা টিপে ধরে শ্বাস রুদ্ধ করে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে। অন্যান্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি ভাবে কিল ঘুষি মারতে থাকে। এই সময় পরকিছ মিয়া আমার গলা থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন আমার ভ্যানেটি ব্যাগে থাকা নগদ ৩,০০০/- তিন হাজার টাকা নিয়ে যায়। উপস্থিত ইউপি সদস্য ১। নুরুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ড, ২। মাহবুবুর রহমান মিঠু, ১নং ওয়ার্ড, ৩। জাহাঙ্গীর আলম, ৭নং ওয়ার্ডসহ, ৪। আব্দুর রহিম রেনু, ৬নং ওয়ার্ড সহ ত্রাণ গ্রহণকারী লোকজন তাদেরকে বাধা নিষেধ দিয়া আমাকে প্রাণে রক্ষা করেন।

পরে তারা আমাকে হুমকি প্রদর্শন করে বলে যে, এ ব্যাপারে মামলা মোকদ্দমা দায়ের করিলে আমাকে এবং আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে।

পরবর্তীতে আমার ছেলে খবর পেয়ে এসে আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে চিকিৎসা করায়।

তাদের ভয়ে আমি শান্তিপূর্ণভাবে চলাফেরা করিতে পারিতেছি না। যেকোন সময় তারা আমাকে কিংবা আমার পরিবারের লোকদের মারাত্মক ক্ষতি করিতে পারেন।

আরোও পড়ুন >>>>>>>>>>

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পৌর মেয়র ফজলুর রহমান
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাইফুর রহমান বাবুল
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক এস এম মেহেদী হাসান

Share Button