যৌনদাসী থেকে শান্তেতে নোবেল পুরষ্কার পেলেন নাদিয়া

প্রতিদিন২৪ ডেস্ক: শুক্রবার (০৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস। এবার শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুইজন। তারা হলেন- ড্যানিশ মুকওয়্যাগা ও নাদিয়া মুরাদ।

নোবেল জয় করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিযে দিয়েছেন ইরাকের ইয়াজিদি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ। কেননা, নাদিয়া ছিলেন জঙ্গি সংগঠন আইএসের যৌনদাসী। পালিয়ে এসে কঠিনভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন নারী নিযাতনের বিরুদ্ধে। তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে- যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে অনন্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে।

২০১৪ সালের আগস্টে ২৫ বছর বয়সী ওই নারীকে উত্তর ইরাকের কোজো এলাকা থেকে ধরে নিয়ে আইএসের একটি পক্ষের কাছে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয় আরেকটি পক্ষ।

এরপর সিরিয়ান, ইরাকি, তিউনিসিয়ান ও ইউরোপিয়ান আইএসের লোকের নিষ্ঠুর লালসার শিকার হতে হয়েছে তাকে। যন্ত্রণায় কেটেছে তার প্রতিটি মুহূর্ত। একপর্যায়ে অনেক কষ্ট-সংগ্রাম-কৌশল করে তিন মাস পর নভেম্বরে পালিয়ে আসেন তিনি। যোগ দেন আইএসের হাতে বন্দি ইয়াজিদি নারীদের মুক্তির জন্য লড়াইয়ে। রুখে দাঁড়ান নারী পাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। পরিণত হন ইয়াজিদিদের মুক্তির প্রতীকে। এছাড়া ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি কঠিন ভূমিকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যা আজ তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করলো।

যৌন নিপীড়িত-নির্যাতিত এই নাদিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে কাজ শুরু করেন ইয়াজিদি সম্প্রদায়সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের শরণার্থীদের আইনজীবী হিসেবে। মানবাধিকার আদায়ে এই ভূমিকার জন্য তাকে একবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সম্মানজনক শাখারভ পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়েছিল।

২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্যানেলের সামনে নিজের ভয়ানক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন নাদিয়া। সেসময় তিনি বলেছিলেন, আমাদের যখন বন্দি করা হলো, তখন ওদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে শোনা কথাগুলো স্মরণ করে মনে-প্রাণে চাইছিলাম, এমন পাশবিক লালসার শিকার হওয়ার আগে যেনো আমাদের মেরে ফেলা হয়। কিন্তু ওরা আমাদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিলো তাদেরই আরেকটি পক্ষের কাছে। এরপর কী যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে! প্রতিটা মুহূর্তে মনে হয়েছে, আমাদের মেরে ফেলা হয় না কেনো, কেনো আমাদের এভাবে তিলে তিলে নির্যাতন করা হচ্ছে?

নাদিয়ার সেই বক্তব্য ছিল এমন- তিন হাজারেরও বেশি নারী আইএসের হাতে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি রয়েছে। আইএস এই হতভাগ্যদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে! ইচ্ছেমতো জায়গায় বিক্রি করছে নারীদের।

Share Button