মৌলভীবাজারে ৮৪২টি মন্ডপে দূর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে

নজরুল ইসলাম মুহিব, মৌলভীবাজার: দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ আর জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে । এই বিশ্বাস নিয়ে প্রতিবারের মত এবারও মৌলভীবাজার জেলায় ৮৪২টি পূজা মন্ডপে চলছে দূর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলার সার্ব¦জনীন পূজা মন্ডপ গুলোতে প্রতিমা গড়ার মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমায় রং তুলির কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পিরা। আবার কোথাও কোথাও চলছে প্যান্ডেল তৈরী আর সাজ-সজ্জার কাজ। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌলভীবাজারে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।

কয়েকটি পূজা মন্ডপে সরজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে জেলার প্রতিটি পূজামন্ডপে দূর্গাপূজার শেষ দিকের প্রস্তুতি চলছে। মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। মৃৎ শিল্পীরা খড়-মাটির কাজ শেষ করে রংয়ের কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করে স্বাত্তিক মতে রং-তুলির আঁচড় দিয়ে প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তুলছেন তারা।

মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপ সৈয়ারপুর ত্রিনয়নী শিব বাড়ী এবারো পূজায় প্রতিমা তৈরীতে ভিন্ন মাত্রার আয়োজন করেছে। শিব লিঙ্গের আদলে দৃষ্ঠিনন্দন বিশাল প্যান্ডেল আর ২৫ ফুট উচ্চার শত নয়না নীলবর্ণা দেবী দূর্গা প্রতিমা তৈরী করা হচ্ছে। আর ৫০টি মূর্তির সমন্বয়ে পূজার আয়োজন করছে হরিজন পূজা মন্ডপ। এছাড়া আবাহন, নতুন কালীবাড়ী সুহৃদ সংঘ সহ জেলার অন্য সব মন্ডপে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিমা তৈরীর পাশাপাশি কোথাও কোথাও চলছে প্যান্ডেল তৈরী ও সাজ সজ্জার কাজ। উৎসবের রঙ্গে সাজবে মন্ডপ গুলো।

মৌলভীবাজার শহরের বাহিরে রাজনগর উপজেলায় শত বছরের পুরাতন পাঁচ গাও পূজা মন্ডপে অগ্নিবর্না প্রতিমা ও কুলাউড়া উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী কাদিপুর দূর্গাবাড়ীতে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা পূজা দেখতে এসব জায়গায় ছুটে আসেন।

মৃৎ শিল্পীরা জানান গত একমাস ধরে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। খড় মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে পূজার আগের রাত পর্যন্ত রংয়ের কাজ চলবে বিভিন্ন মন্ডপে। তবে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক পর্যাপ্ত না হলেও আন্তরিকতার সহিত কাজ করেন তারা। দৃষ্টিনন্দন সুন্দর প্রতিমা তৈরী করতে হলে মনের মাধুরী দিয়ে কাজ করতে হয়। আর স্বাত্তিক মতে রং-তুলির আঁচড় দিয়ে প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তুলতে দিন রাত প্ররিশ্রম করছেন মৃৎ শিল্পীরা।

ত্রিনয়নী শিববাড়ী পূজা মন্ডপের সাধারন সম্পাদক প্রদীপ দাস জানান, ত্রিনয়নী প্রতিবছর থিম নিয়ে ব্যতিক্রম কিছু করে থাকেন। পূজা অর্চ্চনার সাথে মহাভারত , রামায়ন আর গীতার বিভিন্ন ধমীয় কাহিনী নিয়ে প্রতিমা তৈরী করে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এবারো এর ব্যাতিক্রম হয়নি। ৩০ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গের আদলে প্যান্ডেল করা হচ্ছে। আর ২৫ ফুট উচ্চুার শত নয়না নীল বর্না দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে। সেই সাথে চলছে সাজ সজ্জার কাজ।

নতুন কালী বাড়ী পূজা কমিটির সাধারন সম্পাদক অমিত রায় জানান, শারদীয় দূর্গা পূজার আয়োজন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমায় রংয়ের কাজ চলছে। এছাড়া এবার আকর্ষনীয় সাজ সজ্জার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমেষ দাশ যীশু জানান, মৌলভীবাজার শান্তি ও সম্প্রীতির জেলা। এখানে সকলের সহযোগীতায় দূর্গোৎসব পালিত হয়ে তাকে। এবার জেলায় পূজার সংখ্যা বেড়েছে। সদর উপজেলায় ৮৪টি সহ সারা জেলায় ৮৪২টি সার্জনীন পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ব্যক্তিগত দেড় শতাধীক বাড়ীতে পূজা হয়ে থাকে। উৎসব মূখর পরিবেশে দূর্গা পূজা পালনের লক্ষে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান শান্তি পূর্ণভাবে, নিরাপদে আর উৎসবের আমেজে দূর্গা পূজা উদযাপনের জন্য চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার সকল পূজা মন্ডপের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন

মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২
সরাইলে জিয়াউল হক মৃধা এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কয়েস সামি-অ্যাড. জসিম পরিষদের প্যানেল পরিচিতি ও মতবিনিময়

Share Button