মৌলভীবাজারে ৩ কলেজছাত্রী লাঞ্ছিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারে তিন কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

নির্যাতনকারীদের রূঢ় আচরণের কারণে সালিশ ভেঙে গেলে এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে মডেল থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ কলেজছাত্রী শহরতলির সোনাপুর বড়বাড়ি কামাল উদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে মেসে থাকেন। বাসার মালিকের ভাতিজা মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাবেদসহ তার কয়েক বন্ধু-বান্ধব মেসের ছাত্রীদের প্রতি অশ্নীল আচরণ করত। বাসা হারানোর ভয়ে তারা এর প্রতিবাদ করত না।

সোমবার বিকেলে এক ছাত্রীকে বাসার সামনে পেয়ে নাবেদ অশ্নীল কথা বলে। ছাত্রীটি এর প্রতিবাদ করলে নাবেদ তার চুলের মুঠি ধরে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তার দুই সহপাঠী এগিয়ে এলে তাদের লাথি ও কিলঘুষি মারে নাবেদ ও তার বন্ধুরা।

এ বিষয়টি জানার পর স্থানীয় কাউন্সিলর আসাদ হোসেন মক্কু, জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা লাঞ্ছিত এক ছাত্রীর ভাইসহ বাসার মালিকের উপস্থিতিতে ওইদিন ইফতারের পর সালিশ বসান। সালিশে নাবেদসহ তার বন্ধুরা অশালীন আচরণ করায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া বৈঠক ভেঙে যায়।

মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর আসাদ হোসেন মক্কু বলেন, সোমবার ছাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে সালিশে বসে মীমাংসা হলেও বিষয়টি সামাজিকভাবে সুরাহা করার চেষ্টা চলছে। এরপর নির্যাতিত এক ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় নামোল্লেখিত আসামিরা হচ্ছে নাবেদ, মুন্না, সায়েম ও লোকমান। মামলার পর পুলিশ বড়বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আসামিরা পালিয়ে যায়। পুলিশ নাবেদের বাবা আজিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Share Button