মৌলভীবাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী অবরুদ্ধ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলানাকারীকে লাঞ্চিত ও জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে।

ভোক্তাদের কোন অধিকার নেই, এমনকি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে অবরোদ্ধ করে কতিপয় ব্যবসায়ী।

মৌলভীবাজারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকে অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় বড় দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারী ও তাদের অনুগত কতিপয় ব্যবসায়ীরা।

এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকান-পাট বন্ধ করে প্রায় ২ ঘন্টা সড়ক অবেরোধ করে রাখেন। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তোলে নেন অন্যায়কারীদের পক্ষাবলম্বী কতিপয় ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে)  দূপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের কয়েকটি কাপড়ের দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযানে যান ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক মোঃ আল আমিন

এমবি ক্লথ ষ্টোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক পর্যায়ে বিলাশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে তাকে জিম্মি করে চার্টার বন্ধ করে দেয়া হয়।  পরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে থাকে উদ্ধ্বার করে নিয়ে আসে।

ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, দুপুরে অভিযান শুরু করলে শহরের কোর্ট রোডে রাজমহলে ইফতার সামগ্রীতে পোকা থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এর পর সেন্টাল রোডের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে বিদেশী প্যন্টের দাম ২৪০০ টাকা দেখে কাগজ পত্র দেখে চান ভোক্তা অধিকারের । পরে কাগজ পত্রে ধরা পরে এটি দেশি প্যান্ট এবং দাম ৭’শ।  তাই এই দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর পর সেন্টাল রোডে এমবি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পণ্যের অতিরিক্ত দাম, নিজেদের মত দাম নির্ধারণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং এর পর তা আদায় করেন ।
এর পর বিলাস ডিপার্টমেন্টে গিয়ে পন্যের অতিরিক্ত দাম, বিদেশী পন্যের দাম নিজেদের মত করে নির্ধান, দেশী পন্যকে বিদেশী ব্র্যান্ড নাম দিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ করলে বিলা্স কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায় এবং এ নিয়ে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্টানের মালিকের নির্দেষে কর্মচারী ও আশেপাশের ব্যাবসায়ীরা এক হয়ে জেলা ভুক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-আমিনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে পাশের একটি দোকানে জিম্মি করে রাখে। এ সময় আশে পাশের ব্যবসায়ীরা দোকান পাঠ বন্ধ করে রাস্তায় অবস্থান নেয় পরে পুলিশ উদ্ধ্বার করে নিয়ে আসে।
এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন , যখন তখন ভোক্তা অধিকারের অভিযানের কারনে তাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে । তাদের দাবী তাদেরকে না জানিয়ে অভিযান করা যাবেনা ।

বিলাশ ডিপার্টমেন্টের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, সারা বছর জেলা ভোক্তা অধিকার ঘুমিয়ে থাকে কিন্তু যখন ২০ রমজান আসে তখন জমজমাট ব্যবসার টাইমে তারা অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায় ব্যাঘাত ঘটায়।

মৌলভীবাজার জেলা বিজনেস ফোরামের সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জানান,কোন ধরনের লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেনি বরং আমরা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উত্তেজিত ব্যবসায়ীদের হাত থেকে উনাকে নিরাপদ স্থানে রেখেছি।
এই ব্যবসায়ী নেতা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একজন ব্যাক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা ভোক্তা অধিকার যখন তখন অভিযান পরিচালনা করে ইচ্ছেমত জরিমানা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।

এ ব্যপারে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আল-আমিন জানান, পণ্যের অতিরিক্ত দাম, বিদেশী পণ্যে নিজেদের মত করে দাম বসানো এবং পণ্যের গায়ে থাকা দামকে টেম্পারিং করে নিজেদের মত বসানোর অভিযোগে অভিযান চালানো হয় । কিন্তু তারা আমাদের লাঞ্ছিত করে সরকারী কাজে বাধা দেয়।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম জানান, ভেজাল বিরোধী অভিযানে গেলে ব্যবসায়ীরা থাকে লাঞ্ছিত করে এবং জিম্মি করে রাখে পরে আমরা গিয়ে থাকে উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ঐ দু’টি প্রতিষ্ঠানে মালিকের চেয়ারের পাশের চেয়ার বসে থাকেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দামি উপহার গ্রহণ করেন, বৌ-বাচ্চাদের কাপড়, কসমেটিক্স, পাদুকাসহ নিত্য প্রয়োজনী জিনষ ফ্রিি পেয়ে থাকেন। তাহলে বুঝে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকার এক কর্মকর্তা বলেন, জেলার বড় কর্মর্কতারা ম্যানেজ হয়ে যান। আল আমিন সাহেব কি জানেনা, জেনে শুনে যায় কেন। তার সিনিয়র অফিসারগণ আগে ম্যানাজ হয়ে গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রাইম বিটের সিনিয়র এক সাংবাদিক বলেন, ভোক্তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রনলয়ের অধিনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এটা সাধারণ মানুষের জন্য। এটা তদারকি করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে।  সরকারি কাজে বাধাঁ দান, সরকারি কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখা এটা অপরাধ।  যারা এমন কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অতিব জরুরী।

তিনি আরোও বলেন, ঐ দু’টি প্রতিষ্ঠানে মৌলভীবাজারের কয়েকজন সাংবাদিক বসে থাকেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার সামগ্রী পেয়ে থাকেন।

মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজারে যানযট সৃষ্টির মূল হোতা এম বি ক্লথ স্টোর ও বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর।  জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ কি তাদের কাছে জিম্মি নয়?। নিশ্চয় রয়েছে রহস্যজনক কারণে।

Share Button