মৌলভীবাজারের খ্যাতিমান মনীষী শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী

বিশেষ প্রতিবেদক:বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের পুণ্যভূমিতে যে ক’জন খ্যাতিমান মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছিল তিনি তাদের অন্যতম। শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.)। আওলাদে রাসুল হজরত হোসাইন আহমদ মাদানীর (রহ.) অন্যতম খলিফা ছিলেন তিনি। শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.) ১৯১৬ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের বরুণা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুন্সি হামিদ উল্লাহ ও মাতা আমেনা খাতুন।

পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং আমৃত্যু দ্বীন, জাতি ও সমাজের খেদমতে নিজেদের নিবিষ্ট রেখেছিলেন তাদের তালিকার অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শায়খে বর্ণভী (রহ.)। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া বরুণা মাদরাসা।
শায়খে বর্ণভী (রহ.) প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন তার বাবা মুন্সি হামিদউল্লাহর কাছে। পরবর্তীকালে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। সেখান থেকে ১৯৩৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ গমন করেন। সেখানে ছয় বছর লেখাপড়া করে দাওরায়ে হাদিস সমাপন করেন। সে সময় দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস ছিলেন হজরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)। হজরত শায়খে বর্ণভী (রহ.) ছাত্র অবস্থায়ই শায়খুল ইসলাম মাদানীর (রহ.) কাছে বায়াত হন।

১৯৪১ সালে দেশে ফিরে তিনি মৌলভীবাজারের প্রসিদ্ধ মাদরাসা দারুল উলুমে শিক্ষকতা করেন। সেখানে ১০ বছর শিক্ষকতার পর ১৯৫১ সালে নিজ গ্রামে পৈতৃক ভূমিতে আনওয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। আমৃত্যু তিনি এ মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও মোহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

১৯৭৭ সালের ১৭ মে বর্ণভী (রহ.) নশ্বর এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন। শায়খে বর্ণভীর রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বরুণা টাইটেল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা। যেখানে সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয় মাদরাসা ময়দান।

Share Button