মৌলভীবাজারের অপহৃত ডাঃ মইনউদ্দীন নাটোর থেকে উদ্ধার

শ. ই. সরকার জবলু, মৌলভীবাজার: নাটোরের  বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ মৌলভীবাজারের অপহৃত পল্লী চিকিৎসক মইনউদ্দীনকে উদ্ধার ও অপহরণের মূল হোতা ২ নারীসহ ৫ অপহারককে আটক করেছে নাটোর জেলার বরাইগ্রাম থানার পুলিশ। আরো ১ অপহারক পালিয়ে গেছে। অপহারকরা দাবীকৃত মুক্তিপণ ১ লাখ টাকা আদায় করতে না পারলেও, অপহৃত মইনউদ্দীনের বিকাশ একাউন্টে থাকা ১৬ হাজার ৪শ টাকা, নগদ ৬ হাজার টাকা, ১টি টাচ মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় মামলা (নং- ২৪, তাং- ২২/০৯/২০১৮) হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত পল্লী চিকিৎসক মইনউদ্দীনকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তবে, টাকা, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি উদ্ধার করা যায়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়- নাটোর যাবার কথা বলে ডাঃ মইনউদ্দীন গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৭টার দিকে বাড়ী থেকে বের হন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে তিনি তারই মোবাইল ফোনে তার এক স্বজনকে জানান ‘১ লাখ টাকার জন্য আমি অজ্ঞাত স্থানে আটক হয়েছি। আমার বিকাশ একাউন্টে ১ লাখ টাকা বিকাশ করো’। তিনি জানান ‘তারা আমার কাছে ১ লাখ টাকা পাওনা। আমাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে তা আমি নিজেই জানিনা’।
তখন ওই স্বজন ঘটনাটি ডাঃ মইনউদ্দীনের সমন্দিকে জানান। তিনি ডাঃ মইনউদ্দিনকে উদ্ধারে পদক্ষেপ কামনা করে নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব তালুকদারকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠান। পুলিশ সুপার ঘটনাটি বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাসকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। ওসি দিলীপ কুমার দাস মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ডাঃ মইনউদ্দীনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশের ২টি টিম নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামেন। একপর্যায়ে পুলিশী অভিযান টের পেয়ে অপহারকরা স্থান পরিবর্তন করে। পুলিশও মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে যায়। এ পর্যায়ে অভিযানের নেতৃত্বে আসেন বড়াইগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। বড়াইগ্রাম পুলিশের বিরামহীন অভিযানে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুর থানার নওপাড়া গ্রামে অপহরণের মূল হোতা প্রিয়া আক্তার নুপুরের বাড়ী থেকে ডাঃ মইনউদ্দীন উদ্ধার এবং অপহারক নুপুর ও রিমন গ্রেফতার হয়। এসময় নুপুরের স্বামী সুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর পুলিশ তাদেরকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে নুপুর ও রিমনের দেয়া তথ্য ও ডাঃ মইনউদ্দীনের শনাক্ত অনুযায়ী আরশেদ ওরফে ভেকা, ইমন ও তার স্ত্রী মিতাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান শেষে বড়াইগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসি মোবাইল ফোনে ডাঃ মইনউদ্দীনের সমন্দিকে ডাঃ মইনউদ্দীন উদ্ধার ও অপহারকরা আটকের বিষয় অবহিত করেন এবং বড়াইগ্রাম থানা থেকে ডাঃ মইনউদ্দীনকে নিয়ে যেতে অনুরোধ জানান। নাটোরের পুলিশ সুপারও বড়াইগ্রাম থানা থেকে ডাঃ মইনউদ্দীনকে নিয়ে যাবার জন্য মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে সাপ্তাহিক দেশপক্ষ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক বেলাল তালুকদারকে সাথে নিয়ে ডাঃ মইনউদ্দীনের সমন্দি বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে ডাঃ মইনউদ্দীনকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে তার বাড়ীতে নিয়ে আসেন।
বড়াইগ্রাম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নুপুর জানায়- সে ফেসবুকের মাধ্যমে ডাঃ মইনউদ্দীনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। গভীর বন্ধুত্বের সুবাদে সে একপর্যায়ে ডাঃ মইনউদ্দীনকে তার বাড়ীতে বেড়াতে যাবার আমন্ত্রণ জানাতে থাকে। বার বার অনুনয় বিনয় করে আমন্ত্রণ জানানোর প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে ডাঃ মইনউদ্দীন রাজী হন। এর প্রেক্ষিতে তার নির্দেশনা অনুযায়ী ডাঃ মইনউদ্দীন গত ২১ সেপ্টেম্বর বড়াইগ্রামের আহমদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌছে মোবাইল ফোনালাপের মাধ্যমে তার সাথে মিলিত হন। এরপর সে তাকে একটি রিক্সাভ্যানে করে মিতার বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষমান অন্যান্য অপহারকদের নিয়ে তাকে আটক ও মুক্তিপণ হিসাবে ১ লাখ টাকা দাবী করে। তাদের শিখানো মতে ডাঃ মইনউদ্দীন তার স্বজনদেরকে ১ লাখ টাকা বিকাশ করার জন্য বলতে বাধ্য করে। কিন্তু, দীর্ঘ সময়েও ১ লাখ টাকা বিকাশে না আসায় তারা তাকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। তার স্বজনদেরকে বিকাশে টাকা পাঠাতে বাধ্য করার জন্য তাকে নির্যাতন ও টাকার অপেক্ষায় থাকাবস্থায় তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
অপহরণের শিকার ডাঃ মইনউদ্দিন আহমদ মৌলভীবাজার জেলাসদরের ফতেপুর (শাহবন্দর) মুন্সীবাড়ীর মৃতঃ আব্দুল মোক্তাদিরের পুত্র। গ্রেফতারকৃত অপহারক (১) প্রিয়া আক্তার নুপুর নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার নওপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন সুজনের স্ত্রী (২) মোজাম্মেল হোসেন সুজন ওই গ্রামের মোসলেমের পুত্র (৩) রিমন হোসেন বনপাড়া সরদারপাড়া গ্রামের হেকমতের পুত্র (৪) আরশেদ ওরফে ভেকা কান্দাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃতঃ জহির হাজীর পুত্র (৫) ইমন বড়াইগ্রাম থানার কৈডিমা গ্রামের নাজেমের পুত্র ও (৬) মিতা আক্তার উক্ত ইমনের স্ত্রী।

Share Button