‘মুচি জসীমের’ গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের আতঙ্ক জসীম ইকবাল ওরফে ‘মুচি জসীমের’ গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে জেলার কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ভুলেশ্বর এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, ‘মুচি জসিমের এখন শত কোটি টাকা’ শিরোনামে গত বুধবার কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, রাতে উপজেলার হাইলজোড় এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এ্যাশ রংয়ের প্যান্ট ও হলুদ রংয়ের শার্ট পরিহিত জসিম উদ্দীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তবে জসিম ইকবাল ওরফে মুচি জসীম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নাকি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কাপাসিয়া থানার ওসি মো. আবু বকর ছিদ্দিক সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১৭ মামলার পলাতক আসামি জসিম দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে গতকাল মুচি জসীমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরে স্থানীয় লোকজন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।

উল্লেখ্য, জুতা তৈরির কারখানায় একসময় পিয়নের চাকরি করতেন। সেই থেকে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিতি ‘মুচি জসীম’ নামে। সেই জসীম ইকবাল আজ শতকোটি টাকার মালিক। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক! বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ নামে এক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পুলিশের এই সোর্স। ১৭টি পরোয়ানাভুক্ত মামলা মাথায় নিয়েও পুলিশের সঙ্গে তাঁর নিত্য উঠবোস। সরকারের ৩০০ বিঘা জায়গা দখল করে বন কেটে গড়ে তুলেছেন নতুন এক গ্রাম। টাকার বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক জমি জবরদখলেও তিনি সিদ্ধহস্ত ।

জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে গিয়ে গোটা জীবনটাই বদলে নিয়েছেন জসীম। তাঁর কাছে যেন কেউই নিরাপদ নয়। স্বার্থের পরিপন্থী হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর হামলে পড়েন তিনি। একে একে ১৭টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই তিনি ঘুরে বেড়ান। তাঁর কুকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। বাদ যাননি সরকারি কর্মকর্তাও।

২০১৫ সালের ২১ আগস্ট চন্দ্রায় জাতির পিতা কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। আর এই হত্যার ঘটনায় কপাল খুলে যায় মুচি জসীমের। রফিকুল হত্যার আসামিদের ধরিয়ে দিতে থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে পুলিশের বিশ্বস্ততা অর্জনের সুযোগে হত্যা মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে এলাকার মানুষজনকে জিম্মি করে ফেলেন জসীম। তাঁর সহযোগিতায় কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানে না এমন মানুষজনকেও ধরে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে আর জসীম মধ্যস্থতা করে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। আর থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ করে টাকা আদায় করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, চন্দ্রা এলাকায় মানুষের জমি জবরদখলে মুচি জসীমের জুড়ি মেলা ভার। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি চুক্তিভিত্তিক জমি জবরদখল করে দেন। জসীমের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসমান পালোয়ান নামের এক কৃষক জানান, তাঁর ভাতিজা রাজীবের পকেটে কৌশলে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেন জসীম। পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

Share Button