মুক্তিপণের জন্য বলি হলো তিন বছরের জুঁই।

রূপগঞ্জ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: তিন বছরের ফুঁটফুঁটে জুঁই। একমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ায় মা-বাবার কাছে ছিল অতি আদুরে। বাকপটু হওয়ায় আশপাশের লোকজন সবাই তাকে স্নেহ করতো। কথা ছিল বৃহস্পতিবার বিকালে মায়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মেলায় যাওয়ার। মেলা থেকে তার পুতুল কেনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিন বছরের জুঁইয়ের কপালে তা সইলো না।

নিষ্পাপ জুঁইয়ের আশা স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিল অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের জন্য বলি হলো এই অবুঝ শিশু।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জুঁইকে গত বৃহস্পতিবার অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণের ২১ ঘন্টা পর শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে শরীরে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয় তার।

নিহতে বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিজ বাড়ির পাশে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলা করছিল তার মেয়ে জুঁই আক্তার। দীর্ঘ সময়ে বাড়ি ফিরে না আসায় তার মা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে। দুপুর ২টার দিকে অপহরণকারীরা জুঁইয়ের মুক্তিপণের জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।

তিনি জানান, এ টাকা দিতে অপরাগতা স্বীকার করলে অপহরণকারীরা ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এতেও রাজি না হওয়ায় ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকা গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেলষ্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পৌঁছলে তার মেয়েকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ট্রাকিং করে।

আনোয়ার হোসেন জানান, এ সময় মোবাইল ফোনের অবস্থান তার বাড়ির পাশে ছিল। এরপর শুক্রবার সকালে বাড়ির পেছনের গেটের পাশ থেকে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তাবন্দি জুঁইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ভুলতা উপপরিদর্শক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ধারণা করা যাচ্ছে শিশুটিকে অপহরণকারীরা হত্যা করে রাতের যে কোনো সময় তার বাড়ির পাশে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আনোয়ার হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সুলতান মিয়া, জিন্না মাদবর, জহিরুল, একরামুল ও তার স্ত্রী সখিনা বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে।

একমাত্র কন্যা সন্তানকে হারিয়ে জুঁইয়ের পরিবার ও আশপাশের লোকজনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জুঁইয়ের মা শারমীন আক্তার বলেন, আমার সোনার টুকরা মাইয়াডাতো নিষ্পাপ আছিলো। ও তো কোনো দোষ করে নাই। ওরে ক্যান মাইরা ফালাইলো। টাকা লাগলে আমাগো কইতো। আল্লাহ যেন ওগো বুক খালি কইরা নেয়। জুঁইয়ের বড় দুই ভাই আপন ও আকাশ একমাত্র বোনকে হারিয়ে নিথর হয়ে বসে আছে।

রূপগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বড়ই নিষ্ঠুর এ ঘটনা। দ্রুত আসামীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগে আরোও থাকছে

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ১৩
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা : যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
নরসিংদীতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

Share Button