মিটু’ আন্দোলন শুরু হোক এদেশেও

লেখক, সাংবাদিক- শেখ মামুনুর রশীদ

বিভিন্ন গণমাদ্যমে সংবাদকর্মীদের উপর বিভিন্নভাবে হয়রানী করার প্রতিবাদে দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস দিয়েে একটি আন্দোলনের যাত্রা শুরু করেছেন। যার নাম দিয়েছেন “ মিটু আন্দোলন” যা বাস্তব জীবনে ঘটে যাচ্ছে চোখের আড়ালে। তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ঘটনা এক :

অনেকদিন আগের কথা । একটি অনলাইন গণমাধ্যমের যাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে । অফিসে সংবাদ কর্মীরা ব্যস্ত কাজে । এমন সময় হুট করে বিদ্যুৱ চলে গেলো । অন্ধকার ঘর । এরমধ্যেই এক নারী সহকর্মীর পেছনে হাত দিলেন প্রতিষ্টানটির বড় এক কর্তা ব্যক্তি । অন্ধকারেই মেয়েটিকে জোর করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । রাগে ক্ষোভে মেয়েটি কিৱকার করলো, এরপর কাদতে কাদতে বেরিয়ে এলো । মেয়েটির স্বাভাবিক হতে অনেকদিন সময় লেগেছে ।

ঘটনা দুই :

দেশের জনপ্রিয় একটি পত্রিকায় দু’জন সহকর্মী । সমবয়সী; একজন নারী, অন্যজন পুরুষ । এক অফিসে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রেম হয় । কিন্তু প্রতিষ্টানটির বড় কর্তা এটি মেনে নিতে পারেননি । কারণ, তার নিজেরই কু-দৃস্টি ছিলো অধীনস্ত ওই নারী সহকর্মীর ওপর । তিনি সফল হতে পারেননি বলে, সহকর্মীর সংগে প্রেম করার অপরাধে মেয়েটিকে চাকরিচ্যুত করেন । রাগে ক্ষোভে মেধাবী মেয়েটি এক পর্যায়ে বিদেশে পাড়ি দেন ।

ঘটনা তিন :

বিদেশী একটি গণমাধ্যমে কাজ করেন তিনি । মানুষ জানে লোকটি বেশ ভদ্রলোক । কথা বলেন আস্তে, নরম কন্ঠে । ভদ্রলোকের অফিস যে ভবনে ঠিক তার নীচেই আরেকটি গণমাধ্যমের অফিস । সেখানে কাজ করেন একটি মেয়ে । কারণে অকারণে তার সংগে আলাপ জুড়ে দেন, নিজের রুমে ডাকেন, চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান ওই ভদ্রলোক । একদিন তথাকথিত ওই ভদ্রলোক মেয়েটিকে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে কথা বলতে বলতে জড়িয়ে ধরেন । মেয়েটি তাকে থাপ্পর দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।

এদেশের গণমাধ্যমে এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে । পুরুষ বস, পুরুষ সহকর্মীর হাতে নারী সহকর্মী, অধীনস্ত নারী কর্মী নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন । আশাকরি তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ কথা বলতে শুরু করবেন । ভন্ডদের মুখোশ উন্মোচন করবেন । মিটু আন্দোলনের ঝড় এখানেও শুরু হোক । দ্রুত শুরু হোক ।

লেখক: শেখ মামুনুর রশীদ, বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর।

Share Button