ব্যাটা আছিল সাইফুর রহমান!!

ডেস্ক রির্পোট: ২৭ অক্টোবর আমার জন্মদিন।মৌলভীবাজার শহর থেকে সিএনজি অটো রিকশা যোগে শমশেরনগর যাচ্ছি। পরিবার সেখানে রয়েছে।

পিছনের সীটে আমরা তিনজন যাত্রী ছিলাম। ড্রাইভার ভাই একজন মুরুব্বী মানুষ, বিশ বছর ধরে এই রুটে গাড়ি চালান। গাড়ি চলতে শুরু করলে, আমি ড্রাইভার সাহেবকে অনুরোধ করলাম ভাই একটু দেখেশুনে যান আমার পায়ে অপারেশন হয়েছে, প্লেট লাগানো।

পাশের যাত্রী শুনে বললেন আপনি তো ভুল করলেন শ্রীমঙ্গল হয়ে গেলেন না কেন?এই রাস্তাটি রাস্তা নয় যেন দোযকখানা। হার্টের রোগী, ডেলিভারির রোগী কেউ এই রাস্তা দিয়ে যায় না।

তৃতীয় যাত্রী বললেন, আরে ভাই এমপি শহীদ স্যার গত ত্রিশ বছর ধরে এমপি থাকার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু যাত্রীর দুর্দশা বুঝেন না। তিনি এক ধমক দিলে কন্টাকটারের বাপেও কাম করলও নে ।

অন্য যাত্রী প্রশ্ন তুললেন, রাস্তা তো শুধু হুইপ সাহেবের এলাকার নয়। মৌলভীবাজার সদরের এমপি সাহেবের কোনো দায়িত্ব নায় নি? তিনি তো প্রধানমন্ত্রীর খাস লোক, কিন্তু পাওয়ার নাই কেনে? মহিলা এমপি একদিন আইসলা রাস্তার কাম দেখাত, নিম্নমানের কাজ দেখিয়া কাজ বন্ধ করিয়া গেছইন গি।

আমি জানতে চাইলাম, সড়কটি চাতলাপুর পর্যন্ত ভারতীয় বর্ডারের গিয়ে শেষ হয়েছে, ওই এলাকার এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ওখানকার খবর কী? সাথে সাথেই পাশের জন জবাব দিলেন ওই রাস্তায় কাজ চলছে যদিও সুলতান সাহেবের মূলের ঠিক নাই। আইজ এক ডালে ধরইন তো কালকে আরেক ডালে। তবে শুনছি মৌলভীবাজারের বর্তমানের ডিসি সাহেব অ্যাক্টিভ তিনি নিজে রাস্তার খুজখবর নেন। বিতর্ক তখন তুঙ্গে।

হঠাৎ ড্রাইভার সাব আওয়াজ দিলেন, “সাবহকল কাম করতে হাতাইশ জন এমপি লাগেনা। বাঘের বাচ্চা একজন হইলেও চলে।ব্যাটা আছিল সাইফুর রহমান!! আল্লাহ এ নিলাগিয়া নাইলে দেখলায় নে রাস্তার কাম কেমনে হয়?” ততক্ষনে সিএনজি শমশেরনগরে পৌঁছে গেছে।
ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে আমরা যে যার রাস্তা ধরলাম।

অ্যাডভোকেট মুস্তাক আহমদ এর ফেইসবুকের টাইমলাইন থেকে নেয়া।

সম্পাদনায়: মোন/ মুন্না।

Share Button