বিচারপতি এস কে সিনহার অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলেছে

বিচারপতি এস কে সিনহার ফাইল ছবি।

দেশের বিচার বিভাগের এক কালো অধ্যায় এস. কে. সিনহা। সম্প্রতি তার নিজের আত্মজীবনী ‘ব্রোকেন ড্রিম’ প্রকাশের মাধ্যমে আবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তার লেখা বইটিতে তিনি সরকারের নামে ভিত্তিহীন তথ্য দেয়ায় আবার তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। সেই সাথে বেরিয়ে আসছে তার অপরাধের ঝুলি। বিচারপতি থাকাকালীন বিচারের রায় পরিবর্তনের জন্য নিতেন মোটা অংকের অর্থ। এছাড়াও জড়িত ছিলেন নানা রকম অপকর্ম ও দুর্নীতির সাথে। আমেরিকা-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় অর্থ পাচার, দুদকের তদন্তে বাধা, জজ নিয়োগে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তার অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ তিনি প্রেরণ করতেন তার বিদেশে থাকা মেয়েদের কাছে এবং বিশ্বস্ত কিছু ব্যক্তিবর্গের ব্যাংক একাউন্টে। তালিকায় তার মেয়েরা ছাড়াও আছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রণজিৎ, কানাডা প্রবাসী অভিবাসন আইনজীবি মেজর (অব.) সুধীর সাহা।

এস. কে. সিনহার ছোট মেয়ে আশা সিনহা থাকেন কানাডায়। সিনহাকে নিয়ে দেশ বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসা এসব খবর চোখ এড়ায়নি কানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব কমার্সের (CIBC)। কানাডায় অবস্থিত সিনহার ছোট মেয়ে আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে এবার তার একাউন্ট জব্দ করেছে সিআইবিসি। সুধীর সাহার মাধ্যমে আশা সিনহার একাউন্টে (একাউন্ট নম্বরঃ ৫৫১৪২৩১, CIBC) মোটা অংকের টাকা জমা হয়েছে বলে ক্যানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের তদন্তে উঠে এসেছে।

০৭ এপ্রিল ২০১৬, আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে মেজর (অব.) সুধীর সাহা ৫০,০০০ ডলার জমা করেন। ০৫ জুন, ২০১৬ এবং ৭ মে, ২০১৬তে যথাক্রমে ৪০,০০০ এবং ৫০,০০০ ডলার জমা করেন। ০৯ জুলাই, ২০১৬ মিরন সাহা নামে এক ব্যক্তি সুধীর সাহার রেফারেন্সে ৫০,০০০ ডলার জমা দেয় আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে। শুধু মেয়েদের একাউন্টই নয় জব্দ করা হয়েছে এস কে সিনহার ব্যাংক একাউন্টও।

এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৩ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ টাকা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়েদের কাছে পাচার ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করেছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতির আয়কর বিবরণী, অনিরুদ্ধ রায়ের অ্যাকাউন্টস অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিবরণী, কানাডায় পাঠানো টাকার ব্যাংক কনফারমেশন এসএমএসের স্ক্রিন শর্ট, কানাডায় অবস্থান করা প্রধান বিচারপতির মেয়ে আশা সিনহার দ্বারা অর্থ প্রাপ্তির স্বীকৃতির এসএমএস, অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো অর্থের কনফারমেশন ই-মেইল, ইন্দোনেশিয়ার পেনিন ব্যাংক হতে অস্ট্রেলিয়ায় সূচনা সিনহার অ্যাকাউন্টে পাঠানো অর্থের ডিপোজিট ফর্ম থেকে এসব অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এস কে সিনহা দেশের একটি সর্বোচ্চ আসনে আসীন হওয়ার পরও কোনো রকম গর্হিত কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি। একজন বিচারপতির এরকম অর্থলোভী আচরণ সত্যিই পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

Share Button