বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে মৌলভীবাজারের এক স্কুল ছাত্রী। একই সঙ্গে বর ও কনের পিতাকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত প্রেস রিলিজ থেকে জানা যায়, বাল্যবিবাহ নিরোধে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।

মৌলভীবাজারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসানের নির্দেশনা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ নিরোধে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার কর্তৃক অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসনের প্রেস রিলিজের উল্যেখ করা হয়, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০/২৫ জনের খাবারের আয়োজনসহ পাত্রী পছন্দ হলে বিয়ের প্রস্তুতি ছিল পাত্রীর বাবার; পাত্রী বিয়ের পোশাক পরিহত ছিলেন। পাত্রীর বাবা তার মেয়ের বয়স ১৮ বানানোর জন্য ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মিথ্যা জন্মতারিখ দিয়ে একটি মনগড়া ‘জন্ম সনদ’ তৈরি করেন।

পরবর্তীতে অধিকতর চাপ প্রয়োগে পাত্রীর জে.এস.সি রেজিস্ট্রেশন ও এডমিট কার্ডের মূল কপি বের করানো হয়। সে অনুযায়ী বয়স ১৬ বছর ০৫ মাস ০৭ দিন।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী পাত্রকে ৫ হাজার এবং একই আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী পাত্রীর বাবাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে আদায় করা হয়।

একই সাথে উভয় পক্ষ হতে মুচলেকা নেয়া হয় এই মর্মে যে, তারা পাত্রীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করবেন না, বা দিবেন না।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন এবং মো: রুহুল আমিন।

সম্পাদনায় : মেহেদী/ জ্যোৎস্না।

Share Button