বগুড়ায় গৃহকর্মীর মামলায় গৃহকর্ত্রীকে গ্রেফতার

বগুড়া সংবাদদাতা: শহরের নামাজগড় কাঁচাবাজার এলাকার  মা ও মেয়ের ১০ বছরের বেতনের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় পুলিশ গেতু বেগম (৩০) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।

বগুড়া অ্যাডভোকেটস্ বার সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট শিপন আলী জানান, সংসারে অভাবের কারণে বগুড়া শহরের নামাজগড় কাঁচাবাজার এলাকার মৃত রূপচাঁন দাসের স্ত্রী সুধীয়া রানী দাস (৭৫) ও মেয়ে শিবু রানী দাস (২০) শহরের জলেশ্বরীতলার মৃত মিঠু মিয়ার স্ত্রী গেতু বেগমের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন।

মা ও মেয়ের বেতন ধার্য হয় মাসিক এক হাজার করে দুই হাজার। কিন্তু সুধীয়া রানী তার মেয়ের বিয়ের জন্য বেতনের টাকা নেননি। গত ১০ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় হয়।

এদিকে মেয়ে শিবুর বিয়ে ঠিক হলে সুধীয়া গৃহকর্ত্রী গেতু বেগমের কাছে সঞ্চিত বেতনের টাকা দাবি করেন। কিন্তু গেতু টাকা না দিয়ে মা ও মেয়েকে লাঞ্ছিত করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

টাকার অভাবে শিবুর বিয়ে ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে মা-মেয়ে সদর থানায় অভিযোগ করেন। এ সময় গেতু বেগম টাকা দেয়ার আশ্বাস দিলে মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুধীয়া রানী সদর আমলি আদালতে গৃহকর্ত্রী গেতু বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আদালত থেকে ওয়ারেন্ট হলে তিনি জামিন নেন। সাক্ষী শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আবার ওয়ারেন্ট জারি হয় বলে জানান আইনজীবী শিপন আলী।

অ্যাডভোকেট শিপন আলী বিনা খরচে গৃহকর্মী মা ও মেয়ের মামলাটি পরিচালনা করছেন।

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ও এসআই রোজিনা খাতুন জানান, আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করলেও তা দীর্ঘদিনে তামিল হয়নি। বুধবার জলেশ্বরীতলার বাড়ি থেকে গেতু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

অসহায় দরিদ্র বৃদ্ধা সুধীয়া রানী জানান, মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য বিশ্বাস করে বড় দিদির (গৃহকর্ত্রী গেতু) কাছে ১০ বছরের বেতন সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে উল্টো মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে তার মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেছে।

তিনি এ ব্যাপারে প্রতারক গৃহকর্ত্রীর গেতুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

Share Button