প্রাকৃতি সৌন্দর্যের পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে টাংগুয়ার হাওরসহ ২৫ স্পট

মিজানুর রহমান রুমান, সুনামগঞ্জ: দেশের উত্তর-পূর্ব অংশের অন্যতম জেলা হচ্ছে সুনামগঞ্জ প্রাকৃতি সৌন্দর্যের পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে টাংগুয়ারহাওরসহ সুনামগঞ্জের ২৫ স্পট ।

জেলাটি ধানের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও প্রাকৃতি সৌন্দর্যের রূপ লোভনীয়। এ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে ২৫ টির বেশি পর্যটন কেন্দ্র। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণা পড়ে। এবারের ঈদের ছুটিতে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে যাওয়া হতে পারে সেরা সিদ্ধান্ত। হাওর আর পাহাড়ের মিলনে সমৃদ্ধ তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৫টির বেশী বিভিন্ন পর্যটন স্পট নয়ানাবিরাম, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সমৃদ্ধ। সেই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশের পাঠকদের সামনে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বর্ণনা টাংগুয়ার হাওর- একটি প্রবাদ আছে-নয়কুড়ি বিল, ছয় কুড়ি কান্দার সমন্বয়ে গঠিত শত বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই হাওর।

যেখানে নানা প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণী, হিজল, করচের বাগ এ হাওরের সৌন্দর্যকে আরো দর্শনীয় করেছে। বর্ষায় টাংগুয়ার হাওর এক বিশাল সমুদ্রের রূপ ধারণ করে আর শীতের সময় অতিথি পাখির আগমনে টাংগুয়ার হাওরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। এছাড়াও রয়েছে হাওর সংলগ্ন ৬৮টি গ্রামের যুগ যুগ ধরে বসবাস করা মানুষের জীবন জীবিকার মুগ্ধকর চিত্র। এই হাওরে পানির রূপের বর্ণনা নাই দিলাম। নিচ চোখে দেখে জীবনের পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারেন। পরিকুন্ড জলপ্রপাত

শিমুল বাগান- শিমুল বাগানঘিরে থাকা প্রকৃতিসুন্দর এমন অনন্য স্থান পরিকল্পিত এই বাগানটিকে আরো সৌন্দর্যময় করে তোলছে। তাই শিমুল বাগান দেখতে আসা লোকজন বাগান মালিকের প্রশংসা না করে পারেন না। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে বসন্তের শুররুতে বাগানের সবগুলো গাছে রক্তরাঙা ফুল ফোটায় দৃষ্টিননন্দন বাগানটির কথা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। অন্তর্জাল দুনিয়ায় ব্যস্ত মানুষের মন কেড়ে নেয় এক একটি আগুনরাঙা ছবি। ছবি দেখে নিরন্তর অন্তর্জাল স্ক্রিনে থাকা ঝাঁপসা দু’চোখ মুহুর্তে সতেজ হয়ে ওঠে তাদের। সময় সুযোগ করে তারা ছুটে আসেন সপরিবারে, সবান্ধবে। একে অন্যের হাত ধরে আগামীর স্বপ্নে বুদ তরুণ জুটি ছুটে আসে মন রাঙাতে। সারাদেশের আলোচিত পর্যটন স্থান হচ্ছে তাহিরপুরের শিমুল বাগান। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে এই শিমুল বাগানে সারি সারি গাছের সবুজ পাতার সুনিবিড় ছায়ায় পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। আর বসন্তের ডালে ডালে ফুটে থাকা রক্ত মাখা লাল ফুলে আন্দোলিত করে, সেই সঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের মন। বর্ষা, বসন্তে আর হেমন্তে একেক সময় একেক রূপ নিয়ে হাজির হয় বাগানটি। যা দেখে এক অন্য রকম ভাল লাগার অনুভূতি জন্ম নেয় সৌন্দর্য পিপাসুদের মনে। ২০০২ সালে বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন উত্তর বড়দল ইউপির মানিগাঁও গ্রামের যাদুকাটা নদীর পাশে ৯৮ বিঘা অনাবাদী জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই শিমুল বাগানটি তৈরি করেন। এই বাগানে বিভিন্ন ছবি, নাটক ও গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং হচ্ছে। বারিকা টিলা- বারিকা টিলা এলাকায় আইফেল টাওয়ার নামে খ্যাত। পর্যটন শিল্পে মৌলভীবাজার

৩৬৫ একর জায়গা জুড়ে এ টিলায় রয়েছে বাহারি রং বেরংঙ্গের গাছ-পালা ও প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয। বর্ষায় উত্তর দিকে মেঘালয় পাহাড়ে খেলারত মেঘগুলো মনে হয় হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। পাহাড়ের গায়ে নানা রঙ্গের মেঘের খেলা। মেঘ কখনো সবুজ পাহাড়কে ডেকে দিচ্ছে আবার কখনো বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার আপন ভালোবাসায়। পাহাড় আর মেঘের সঙ্গমের দৃশ্য, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। যে রূপ আর সৌন্দর্য সামান্য সময়ের জন্য হলেও অভিভূত হতে হয়। সব সময় মুগ্ধ করে প্রতিনিয়িত দেশ বিদেশের আগত পর্যটকের। নিজের ভিতরের সুপ্ত ভালোলাগাগুলো নিমিষেই বের হয়ে আসে। টিলায় ছোট ছোট আঁকাবাঁকা মেটো পথ নিয়ে যায় মনের সাজানো বাগানে। সমতল ভূমি থেকে এটি অনেক উচু এ টিলায় দাঁড়ালে পাশের গ্রাম গুলোকেও সমতল ভূমির মতো মনে হয়। টিলায় দাড়িঁয় সূর্যদ্বয় বা সূর্যাস্ত উপর থেকে দেখা যায়। যাদুকাটা নদী- মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা অপরূপা সীমান্ত নদী জাদুকাটা। এই নদীর স্বচ্ছ পানির নিচের স্পষ্ট বালু ও পানি একসঙ্গে খেলা করছে। গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি

এছাড়া হাজার শ্রমিক এ নদীতে কাজ করছে। সঙ্গে শত শত নৌকা বালু-পাথর পরিবহন করার চিত্র। সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বিভিন্ন যানবাহনে দিয়ে ভারতীয় সীমান্তের জাহাঙ্গীর নগড় ইউপির নারায়নতলায় রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪৮ শহীদের সমাধি। সাক্ষী হতে পারেন পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতার কাহিনীর।

যেভাবে যাবেন: টাংগুয়ারসহ তাহিরপুর উপজেলার ১৫টি পর্যটন স্পটগুলো পাশাপাশি। তাই রাজধানী ঢাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের বাস সার্ভিস সুনামগঞ্জ জেলা পর্যন্ত আসে। তার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে তাহিরপুর উপজেলায় আসে। তার পর বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে-বাঁশতলা, হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, জুমগাঁও আদিবাসী পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। ছাতক উপজেলায় রয়েছে-লাল পাহাড়, ছাতক-ভোলাগঞ্জ রুপওয়ে, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থান। এই শীতে ঘুরতে যাই চায়ের রাজধানী দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে

যেভাবে যাবেন: রাজধানী ঢাকা থেকে বাসে আসে ছাতক উপজেলায়। তারপর বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। এরপর দোয়ারাবাজার। সেখান থেকে স্পটগুলো বিভিন্ন যানবাহন যায়। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ঈদে ও ছুটির দিনে এ উপজেলার প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের টানে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। টাংগুয়ার হাওর,যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান ও বারেকটিলা তাহিরপুর উপজেলার আকষর্ণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে ঈদ উৎসব ছাড়াও ছুটির দিনে সহস্রাধীক পর্যটক আসেন। কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ অটো ,কেউ স্পীড বোটে আবার কেউ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দল বেঁধে আসেন।

এ বিভাগে আরোও থাকছে

কক্সবাজারে বিভিন্ন হোটেলের নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার
দর্শনিয় স্থান হয়ে উঠেছে কল্পনা পিকনিক স্পট

Share Button