দুর্নীতির অভিযোগে বিদায় নিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী

ডেস্ক রিপোর্ট: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে উচ্চ আদালতে রুলের বিষয়ে কোনো জবাব দেননি দেওয়ানা মোহাম্মদ হানজালা। এ অবস্থায়ন শেষ করেছেন চুক্তিভিত্তিক চাকরির পূর্ণ মেয়াদ।

দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা। শিক্ষা দপ্তরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী। শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তরের অনিয়মের সকল কলকাঠি নাড়তেন, এমন অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে। অভিযোগ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মান-সংস্কার সব কাজেই তাকে দিতে হত পারর্সেনটেজ।

তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালের অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া কমিশনের বিনিময়ে কাজ দেয়া, প্রকল্প পিছিয়ে বাজেট বাড়ানো, বদলি বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে খানা জালার বিরুদ্ধে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণেও তার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে ৬ তলা একটি প্রশাসনিক ভবন ১৫ তলা করতে নির্মানাধীন প্রাতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। নির্মান ব্যয় ধরা হয় ৪৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু কাজ শুরুর ২ বছর পরেই হানজালা ভবনের ভিত্তি দুর্বল এমন অজুহাতে ১২ তলা করার মতামত দেন। যদিও ভবনটির ভিত্তি দেয়া আছে ২০ তলার।

প্রথম দরপত্রে মোজাইকসহ প্রতি তলার ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ কোটি ২ লাখ টাকা। সেই হিসেবে অতিরিক্ত ৬ তলার ব্যয় হওয়ার কথা ৩০ কোটি ১২ লাখ টাকা। অভিযোগ, হানজালার হস্তক্ষেপে নির্ধারিত হয় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যা ৭ কোটি টাকা বেশি। অতিরিক্ত ৬ তলার মোজাইক করার কথা থাকলেও করা হয়েছে টাইলসের কাজ।

এসব অনিয়মের বিষয়ে সেসময় কয়েক দফা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, এভাবে কোন বিষয়কে অনুমোদন দেয়া হলে, সেখানে ব্যপক দুর্নীতির সম্ভবনা থাকে। নিশ্চিতভাবে এ ধারাগুলো উল্লেখ করে আমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠি দেয়ার কারণে নানাভাবে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে।

ওই অভিযোগে কোন কাজ না হওয়ায় হাইকোর্টে এক ব্যাক্তি রিট করলে গেল ২৩ মে রুল জারি করেন আদালত।

রিটকারীর আইনজীবী মো. কামার হোসেন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মানে যে দুর্নীতি হয়েছে। এতে কেনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সম্পাদনা: সালেহ বিপ্লব।

সূত্র : এটিএন নিউজ

Share Button