দুই সন্তানের জননী আমি

পূর্ণা রায় ভৌমিক , শিক্ষক

“মা” হয়ে উঠতে পেরেছি কিনা এতে যথেষ্ট সন্দেহ আমার নিজেরই।
মনে হয়, নিজের পেশা, নিজের কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি। ঘরে ফিরে ক্লান্তিকে সঁপে দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না, তার উপর আমার স্বাধীনচেতা মনোভাব, ঘরকন্নার দিকে আমাকে খুব কমই টানে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেই হয়তো ছোট্ট শিশুদের মায়ায় সারাক্ষণ ওদের ঘোরেই মেতে থাকি, থাকতে ভালো লাগে।
ছেলে মেয়ে দু’জনেরই অভিযোগ,”মা, তুমি দাদাকে বেশি আদর করো” ” মা, তুমি তোমার মেয়েকে বেশি আদর করো” এ অভিযোগ মধুর, আবার যখন নিজের কাছে জানতে চাই, আমি কি ওদেরকে ঠিক ঠিক মাতৃস্নেহ দিচ্ছি? বারবার উত্তর আসে,”না”।
আরো বেশি মুগ্ধ হই,অলকা বৌদির Aloka Das মতো “মা”কে দেখে, আহা এমন মাতৃস্নেহ!…
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি রেজিস্টার অলকা বৌদি নিজের ছেলের কাছে এসেছিলেন ওর পরীক্ষার সময়টাতে সঙ্গ দিতে।এসে তাঁর ছেলের বন্ধুদেরও তাঁর ছেলেই করে নিতে হলো, কারণ, মাতৃস্নেহ তাকে বাধ্য করেছে।পরম নিশ্চিন্তে আমিও চুপ করে শুধুই দেখলাম, এতো ধৈর্য্য এতো আবেগ দিয়ে ওদের কার কি লাগবে, কে ঘুমালো, কে উঠলো না, কে খাবার রাখে নি, কে খলো না, কি খাবে! নিজ হাতে রান্না করে দেয়া….এসব করে করে কখন যে গভীর মায়ায় জড়িয়ে পড়লেন….
আমি ওতোটা যত্নশীল মা নই, ধৈর্য্য তো নেইই, তাই যখন দেখলাম অলকা বৌদি করছেন, আমি আমার বৈশিষ্ট্য(ফাঁকিবাজ) অনুযায়ী চুপ, আমি থাকা অবস্থায়ও বৌদি রান্না করতেন, বৌদির রান্না করা ভাত, বৌদির আনা গাওয়া ঘি খেয়ে আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে যেতো।অন্যরা কেউ বাদ পড়েনি তাঁর মাতৃস্নেহ থেকে।
কৃতজ্ঞতা নয়, প্রার্থনা করছি আপনি সুস্থ ও সুন্দর থাকুন, বৌদি…   “ A teacher’s feelings”

লেখক : পূর্ণা রায় ভৌমিক , শিক্ষক

আরোও পড়ুন

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করনীয়
রমজানকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি
মৌলভীবাজারে মনু নদী থেকে হাতি উদ্ধার

 

Share Button