তালতলীতে গৃহবধূকে মারধর, মুখে বিষ ঢেলে হত্যা

বরগুনার তালতলীতে সুমী বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূকে মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আলমগীর ফকির ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে সুমীর মৃত্যু হয়। ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কড়াইবাড়িয়া গ্রামে শুক্রবার সকালে।

জানাগেছে, ২০১৩ সালে উপজেলার পূর্ব গাবতলী গ্রামের আনিসুর রহমান খোকন সরদারের মেয়ে সুমী বেগমের কড়াইবাড়িয়া গ্রামের শাহ আলম ফকিরের ছেলে আলমগীর ফকিরের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমীকে নির্যাতন করতো স্বামী আলমগীর ফকির। গত বুধবার সুমী তার শাশুড়ি পিয়ারা বেগমকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় স্বামী আলমগীর হোসেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।

এর জেরে শুক্রবার সকালে সুমীকে বেধরক মারধর করে আলমগীর। পরে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর বাড়ি নিয়ে তাকে আবারও মারধর করা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে প্রতিবেশীরা সুমীকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। একদিন চিকিৎসার পরে সুমী বেগম শনিবার সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালে মারা যান। রবিবার ময়না তদন্ত শেষে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুমীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

সুমি বেগমের বাবা আনিচুর রহমান খোকন সরদার বলেন, বিয়ের পর থেকে আলমগীর ফকির আমার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করতো। গত শুক্রবার আলমগীর আমার মেয়েকে মারধর করে। মারধরে সুমী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে মৃতভেবে মুখে বিষ ঢেলে পালিয়ে যায়। আমার মেয়ে হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।

তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানায়, খবর শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরোও পড়ুন

পুলিশ কমিশনার কাঁদলেন : বাবাই মেয়ের খুনি
বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র কামালের পদত্যাগ

Share Button