ঠাকুরগাঁওয়ে ইজি বাইক শ্রমিকদের গণ অবস্থান ও সংহতি সমাবেশ

জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও সদরে ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে পৌর সভার টোলের নামে জোর জবরদস্তি শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে বছরে ২ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তা বন্ধের দাবীতে গণ অবস্থান ও সংহতি সমাবেশ করেছে ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।
বুধবার সকাল ১০ টায় সদর উপজেলার ২৫টি ষ্ট্যান্ড কমিটির শত শত শ্রমিকের উপস্থিতিতে ২ ঘন্টাব্যাপি শহর চৌরাস্তায় এই অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়।
 ঠাকুরগাঁও জেলা ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুব আলম রুবেলের সভাপতিত্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মনসুর আলী, সাংস্কৃতিক কর্মী মাসুদ সুবর্ণ, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু, অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ক্রান্তিকাল ডট কমের বার্তা সম্পাদক মো: সোহেল রানা, সদর সাধারণ সম্পাদক বাবু,ছাত্রনেতা পলাশ ও আবু বক্কর, শ্রমিক নেতা দেওয়ান, লাবু, খালেক, সাহাজাহান আলী, ফারুক, বেলাল সহ ষ্ট্যান্ড কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবু আস্ লাবু।
সংহতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর পৌর এলাকায় ৮-৯টি পয়েন্টে লাঠি হাতে গাড়ি আটকিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ¯িøপের মাধ্যমে ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ¯িøপ ১০ টাকা ধরে) আদায় করা হয়। যা মাসে ১৫ লক্ষ টাকা আর বছরে দাড়ায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। এর আগে ইজিবাইকে পৌরসভা লাইসেন্স বাবদ টাকা আদায় করলেও পৌর টোল চালু ছিল না। গত অর্থ বছরে (২০১৮-১৯) ও চলমান অর্থবছর (২০১৯-২০) ধরে পৌরসভা নামকা ওয়াস্তে লোক দেখানো টেন্ডারের মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে ইজারা দিয়ে এই টোল আদায় করছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের বক্তব্যে বলেন  যারা শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালিয়ে টোলের নামে যারা চাঁদাবাজী করছে সে সকল চাঁদাবাজদের ইজি বাইক চালিয়ে গায়ে গতরে খেটে টাকা উপার্যন করার আহŸান জানান।
বক্তারা আরও বলেন পৌরসভার টোলের নামে বছরে  ২ কোটি টাকা আদায় করা হলেও পৌরসভা পায় মাত্র যৎসামান্য ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩শত ৩৩ টাকা। সিংহভাগ টাকাই ঢোকে টোল আদায়কারীর পকেটে। অথচ পৌরসভা ইজবাইকে লাইসেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে এর থেকে দ্বিগুণ টাকা আদায় করতে পারে। তাই তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই টোল আদায় করা হচ্ছে কার স্বার্থে ?
বিভিন্ন নামে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠি এই চাঁদাবাজি করছে এমন অভিযোগ করে  আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, দুই বছর আগে ইজিবাইক মালিক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে সদরে চাঁদাবাজি চলছিল। আমরা শ্রমিকরা তৎকালীণ ডিসিকে অভিযোগ করলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার তা নাম বদলে পৌর টোলের নামে শুরু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রতিটি ইজিবাইকের কাছ থেকে পৌর লাইসেন্সের নামে বছর বছর ফি বাবদ ৬৫০/- টাকা নিলেও আবার পৌর টোলের নামে বছরে ৩৬০০/- টাকা (প্রতি গাড়ি প্রতিদিন ১০ টাকা ধরে) কেন ? এমন প্রশ্ন করে বক্তারা বলেন, একজন ইজিবাইক শ্রমিকের কাছ থেকে পৌরসভা বছরে (লাইসেন্স+টোল বাবদ) ৪২৫০/- টাকা আদায় করছে। যা একজন চালকের গড় ১ মাসের আদায় সমান। এমনিতেই শ্রমিকরা যা আয় করে তা দিয়ে কোন মত খেয়ে বেঁচে থাকে। সেখান থেকে ১ মাসের টাকা চাঁদা দিতে হলে অন্য কিছু চাহিদা বাদই দিলাম শুধু তিন বেলা খেয়ে বাঁচাটাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
সমাবেশে বক্তরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ২২শে ডিসেম্বর অর্ধ দিবস পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৩১ অক্টোবর পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গোটা শহরে আন্দোলনে ফেটে পড়ে ইজিবাইক শ্রমিকরা। এরই অংশ হিসেবে ওই দিন মানববন্ধন, পৌর কার্যালয় ঘেরাও ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনের কাছে একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
Share Button