জীবনের নিরাপত্তার দাবি লন্ডন প্রবাসীর

মোমিন চৌধুরী: বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী কর্তৃক বসতবাড়ি দখল, নামীয় দোকান কোঠা ও ফিলিং ষ্টেশনের ভাড়া আদায় করতে না পারা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সায়েক চৌধুরী।

সায়েক চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার আইনজীবি এডভোকেট জাহিদুল ইসলাম কচি।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তেব্যে সায়েক আহমদ বলেন, তার আপন ভাই লন্ডন প্রবাসী সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেন। সে সুবাদে দেশের সমুদ্বয় সম্পদ তিনিই দেখাশুনাসকরে থাকেন।

তারা ২ ভাই ও ২ বোন হাছনা বেগম চৌধুরী এবং হাফসা বেগম চৌধুরী। বোনদ্বয় বিবাহিত। তারা লন্ডনে বসবাস করছেন। তার মা আনোয়ারা বেগম তার কাছে লন্ডনে বসবাস করেন।

বড় ভাই সোহেলুর রহমান উপফে শোয়েব চৌধুরী বিভিন্ন সময় ৫টি নাম ( শোয়েব চৌধুরী, সোয়েলুর রহমান, যোয়েলুর রহমমান, মোঃ ছমেদ চৌধুরী ও সুহেল আহমদ) ব্যবহার করে প্রতারণা করছেন।

লিখিত বক্তব্য হবহু তোলে ধরা হলো।

জাতির জাগ্রত বিবেক প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ আপনাদের শত ব্যস্থতা থাকার পরেও আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সায়েক চৌধুরী, পিতাঃ ইলিয়াছ মিয়া ওরফে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, মাতাঃ আনোয়ারা বেগম, গ্রাম কনকপুর (বড় বাড়ি), উপজেলা ও জেলাঃ মৌলভীবাজার। হাং সাং ঃ ওয়ার্ড নং ৪, হোল্ডিং নম্বর ৪৩, শান্তিবাগ, মৌলভীবাজার পৌরসভা। আমি প্রবাসী বাংলাদেশি বংশদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। আমরা ২ ভাই ২ বোন। আমার বোন হাছনা বেগম চৌধুরী ও হাফসা বেগম চৌধুরী বিবাহিতা এবং তাদের পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন। আমার মাতা আনোয়ারা বেগম আমার সাথে লন্ডনে বসবাস করছেন। সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী আমার বড় ভাই।
এদিকে আমার বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী বিভিন্ন সময় ৫টি নাম (শোয়েব চৌধুরী, সোয়েলুর রহমান, যোয়েলুর রহমান, মোঃ ছমেদ ছৌধুরী ও সুহেল আহমদ) ব্যবহার করে প্রতারণা করছেন।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ
গত ২৭-০৮-২০১২ইং তারিখে আমার পিতা ইলিয়াছ মিয়া ওরফে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী লন্ডনে বসবাসরত অবস্থায় মারা যাওয়ার পর থেকে পিতার রেখে যাওয়া বাংলাদেশের সকল সম্পত্তি বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী দেশে আসা যাওয়ার সুবাধে দেখা শোনা করতেন। উল্লেখ যে, আমার পিতা সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী’র নামে শান্তিবাগস্থ বাসায় ৩ শতক এবং পশ্চিম বাজার জরিনা ম্যানশনে ১.৬৪ শত জায়গা দিয়ে যান।

৩০-০৪-২০১৮ইং তারিখে আমি ও আমার মাতা দেশে এসে শান্তিবাগস্থ বাসার ৩তলা ফ্লাটে এবং কনকপুরের বাড়িতে অবস্থান করি। পরবর্তীতে আমরা শান্তিবাগস্থ বাসার (৫তলা ১৪টি ফ্লাট সংবলিত) ভাড়া আদায় করতে গেলে বাসার কেয়ারটেকার ভাড়ার টাকা আমাদের দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কেয়ারটেকারকে ভাড়া না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আমাদেরকে সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী’র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে এ বিষয় নিয়ে মোবাইলে বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পুরো বাসাটাই উনার। আমার আম্মা পূনরায় বাসা ভাড়া আদায় করতে গেলে আমার ভাইয়ের পালিত সন্ত্রাসীরা ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখায় এবং ভাড়া আদায়ে বাধা দেয়। পরবর্তীতে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী ২২-০৬-২০০৬ ইং তারিখে গোপনে ২৭৫৩নং জাল ও ভুয়া একটি দলীল উনার নামে তৈরি করেন। তখন আমার পিতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে আমার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ০৪-০৬-২০১৮ইং তারিখে মাননীয় যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন (মোকদ্দমা নং ৫৬/১৮ইং স্বত্ত)। ২৫-০৩-২০ইং তারিখে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের এবং ১৩-০৮-২০ইং তারিখে চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ মৌলভীবাজার সদর বরাবরে একটি দরখাস্ত জমা দেয়া হয়।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ
০৭-১১-২০২০ইং তারিখে আমি বাংলাদেশে আসি। আমি প্রবাসে থাকার সুবাধে আমার বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী কনকপুর বড় বাড়িস্থ আমাদের বসত বাড়ি ও কৃষি জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। তাছাড়াও কনকপুরস্থ মাসুক ফিলিং ষ্টেশনের আমাদের অংশের ভাড়া, সেন্ট্রাল রোডস্থ জরিনা ম্যানশন এর মাহিব ট্রেডার্স এবং কুসুমবাগস্থ হারুন ফার্মেসীর পাশের আমাদের দোকান ফ্রেশ মিটের ভাড়া জোরপূর্বক তোলে নিচ্ছেন।
প্রিয় জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ

০৭-১১-২০২০ইং তারিখে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই আমার বড় ভাই সোহেলুর রহমান উরফে শোয়েব চৌধুরী নানা ভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। দেশে আসার ১ মাস আগে লন্ডনে থাকাবস্থায় ফোনে আমাকে বলেন “তুই বাংলাদেশে আসবি না। অন্যথায় তোকে জানে মেরে ফেলবো”। উনার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন। যার প্রেক্ষিতে আমি গত ১২-১১-২০২০ইং তারিখে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি (এস এল নং ১৮৯৫)। তাছাড়া গত ১০-১১-২০২০ইং তারিখে উপরের বিষয় গুলো উল্লেখ করে এবং সহযোগীতা চেয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবরে একটি আবেদন দিয়েছি। আমি যাতে দেশে না আসতে পারি এবং আমার সম্পত্তি দেখাশোনা করতে না পারি সে জন্য আমার নামে ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে নন জিআর ৪০/১৮ (সদর) বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে নিস্পত্তি হয়েছে। অপর মামলা নন জিআর ১৪৭/১৯ (সদর) আদালতে চলমান।

সম্মানীত সাংবাদিক ভাইয়েরা
আপনাদের নিকট আমার আকুল আবেদন, আমার সকল কাগজপত্র থাকার পরেও আমি, আমার বোন ও মা নায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমার নামীয় বাড়ি ও শহরে আমাদের বাসা থাকার পরেও আমাকে হোটেলে অবস্থান করতে হচ্ছে। আমার ভাইয়ের পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমার নামীয় দোকান কোঠা ও ফিলিং ষ্টেশনের ভাড়া আদায় করতে পারছি না। দেশে এসে অনেকটা মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। উপরের বিষয়গুলোর সত্যতা যাছাইয়ের জন্য আপনাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কামনা করছি।
এতক্ষণ ধৈয্য সহকারে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজকের সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের সমাপ্ত করলাম।

অনুরোধক্রমে

(সায়েক চৌধুরী)
পিতাঃ ইলিয়াছ মিয়া ওরফে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, মাতাঃ আনোয়ারা বেগম
গ্রাম কনকপুর, উপজেলা ও জেলাঃ মৌলভীবাজার
হাং সাং ঃ ওয়ার্ড নং ৪, হোল্ডিং নম্বর ৪৩, শান্তিবাগ, মৌলভীবাজার পৌরসভা।

Share Button