ছেলে চাকুরীজীবি- মা ভিক্ষুক

নাটোর প্রতিনিধি-

ভিক্ষা করে ছেলেদের পড়া লেখা করিয়েছিলেন। বড় আশা ছিল ছেলে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে মাকে দেখাশুনা করবে, কিন্তু সে আশা ধুলিসাৎ হয়ে এখন ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। অভাগা এই নারী হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের ভিক্ষুক মা নসরান বেওয়ার।

এক ছেলে ছেলে চাকরি করেন কমিউনিটি ক্লিনিকে, ছেলের বউ ইউপি সদস্য তবুও এক মুঠো ভাত জুটে না তার। ভিক্ষা করেই নসরান বেওয়া জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন বাজারে বাজারে লাঠি হাতে নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায় নসরান বেওয়াকে। হাত পাতছেন একে অন্যের কাছে। অনেকে আবার তাচ্ছিল করে সরিয়ে দিচ্ছেন। তীব্র গরম যেন তার কাছে কিছুই নয়, যেখানে তীব্র রোদ আর গরমে বের হওয়া কঠিন সেখানে জীবনের তাগিদে ভিক্ষা করে চলছে নসরান বেওয়া। এভাবে সারা দিন ভিক্ষা করে যা আয় হয় তা দিয়ে জীবন চালিয়ে নেন তিনি।

জীবন যুদ্ধ সর্ম্পকে নসরান বেওয়ার বলেন, কোনো মতে জীবন চলছে। বয়স্ক ভাতায় যে কয়টা টাকা পাই তা দিয়ে চিকিৎসা আর পেটে খাওয়া হয় না। মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে চেয়ে নিতে হয় টাকা, আর ওই টাকা দিয়েই কোনো মতে চলে সংসার।

তবে এসময় নসরান বেওয়ার চোখে তীব্র আবেগ আর চোখে ছল ছল পানি যেন গড়িয়ে পড়ছে। দুঃখ করে বলেন, তার ছেলে ও ছেলে বৌ তাকে কোনো ভাত কাপড় দেয় না।

এ ব্যাপারে তার ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, মাকে আমরাই দেখাশুনা করি। কিন্তু মাঝে মধ্যে কথা না শুনে বাইরে গিয়ে মানুষের নিকট হাত পাতেন। মায়ের এই হাত পেতে অন্যের টাকা নেয়াটা আমরা পছন্দ করি না। আবার কিছু করতেও পারি না।

Share Button