কোটি টাকার কিচেন মার্কেট পরিত্যাক্ত রেখে মহাসড়কে বাজার!

মিজানুর রহমান রুমান, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়াজখালী এলাকায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কিচেন মার্কেট পরিত্যাক্ত রেখে মহাসড়কে বাজার বসিয়ে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা। রাস্তার দু’পাশে মাছ বাজার ও সবজি বাজার বসিয়ে রাস্তার আকার ছোট হয়ে প্রায় সময় যানজটের কবলে পড়তে হয় যাত্রীদের। রাস্তার মধ্যে পরিত্যাক্ত সবজি ফেলে রাখায় আশপাশে দুর্গদ্ধ ছড়িয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। সেই সাথে ছড়াচ্ছে নানান রোগবালাই। একাধিক সুত্র জানায়, ২০১৪ সালে রাস্তা থেকে প্রায় ১৫০ গজ দুরে কোটি টাকা ব্যয়ে কিচেন মার্কেট নির্মিত করলেও ব্যবসায়ীরা সে কিচেন মার্কেটে না বসে মাছ বা সবজি বিক্রি করছেন। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিচেন মার্কেটে কাঠের টুকরা দিয়ে কিচেনের অর্ধেক অংশ জুড়ে রেখে ব্যবসা করছেন। আর বাকি অংশে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা ব্যাক্তিগত ব্যবসায় ব্যাবহার করছেন। সূত্র আরও জানায়, কিচেন মার্কেটে ২০১৪ সালে নির্মানের পর পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কের উপর অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও আবারও তারা সক্রিয় হয়ে উঠে কিন্তু প্রশাসনের নজরদারী শীতিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ফের দখল করে নেন সড়কের দু’পাশ। মাছ ব্যবসায়ী অনেকে জানান, আমরা কি একাই অবৈধভাবে ব্যবসা করছি ? সবাইকে যদি তুলে দেওয়া হতো তাহলে আমরাও চলে যেতাম। আর কিচেন মার্কেট এতোদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতো না। আমরা কেহই নিয়ম নীতি মানছি না। পৌরসভা থেকে যদি কিচেন মার্কেটে নতুন করে কাজ করে দেয়া হতো তাহলে আমরা সবাই চলে যাব। পথচারি স্কুল ছাত্র রুবেল জানায়, রাস্তা দিয়ে হাটতে ভয় লাগে। রাস্তার দু’পাশে মাছ আর সবজি নিয়ে বাজার বসার কারণে রাস্তা অনেক ছোট হয়ে গেছে। সবসময় জ্যাম তো লেগেই থাকে তার উপর রাস্তার দিয়ে হাটলে প্রায় সময় পিচ্চিল খেয়ে অনেকে পড়ে হা পা ভেঙ্গেছে। ব্যবসায়ীদের পরিত্যাক্ত সবজি ও মাছ পানি দিয়ে রাস্তা পিচ্চিল ও দুর্গোন্ধ ছড়ানোর কারণে শহর থেকে বের হতে বা ভিতরে প্রবেশ দ্বার ওয়াজখালীতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহ জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে নজরদারী করলে আমরা কোন ব্যবসায়ীই এভাবে রাস্তায় বসে ব্যবসা করার সাহস পেতাম না এবং রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হতো না। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পৌর সভার মেয়র নাদের বখতের বক্তব্য জানতে বার বার মোবাইল ফোনে কল দেয়ার পর রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Share Button