একজন ড্রাইভার নুরুল আমিন ও আমার বাবা: সীমা করিম

ঘটনার সূত্রপাত দু’সপ্তাহ আগে। হঠাৎ একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলো ও আমি রিসিভ করলাম..ওপাশ থেকে একজন বললেন “এটা কি ব্যারিস্টার সীমা করিমের নাম্বার” আমি বললাম “জী, আমি সীমা করিম বলছি”। অতঃপর তিনি বলতে লাগলেন, “আপা আমার নাম নুরুল আমিন। আমি একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার.. আপনার বাবা তো পুলিশের অনেক বড় কর্মকর্তা ছিলেন.. আমি একদিন স্যার কে রমনা থানার কাছে নামাই.. এবং স্যারের কাছে তাঁর ভিজিটিং কার্ড না থাকায় আপনার কার্ড দিয়ে বলেন কোনো প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে।
আপা, আমি গরীব মানুষ.. অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি..বড় ছেলেটা একটি জায়গায় চাকুরীর লিখিত পরীক্ষা দিয়েছে.. আমাদের তো ঘুষ দেওয়ার ক্ষমতা নাই আপা, আপনার বাবা যদি একটু অনুরোধ করতেন..” আমি সব শুনে বললাম.. ঠিক আছে আমি আমার বাবার সাথে কথা বলবো.. আমি পরবর্তীতে আমার বাবার সাথে কথা বলি ও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভা তে তাকে পাশ করানো যাবে বলে আশস্ত করা হয়।

কর্ম ব্যস্ততার কারণে আমি লোকটি কে ফোন করতে ভুলে যাই। অতঃপর কয়েকদিন পর আমি তাকে ফোন করি.. আমার ফোন পেয়ে লোকটি খুউব অবাক হয়..তার ভাষায়..”আপা আপনি আমাকে সত্যিই ফোন করেছেন.. আমি আশা করি নাই আপনি ফোন করে আমাকে আবার জানাবেন.. আমি বললাম, ” দুঃখীত ব্যস্ত থাকায় আপনাকে আগে জানাতে পারিনি.. আপনার ছেলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভাতে সাহায্য করা যাবে।”

লোকটি প্রায় কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলল, “আপা, আপনারা যে আন্তরিকতা দেখালেন, তা বর্তমান সময়ে বিরল.. আমার ছেলের চাকুরী না হলেও কোন অসুবিধা নাই.. আমি আপনাদের কথা সারা জীবন মনে রাখবো আর স্যার ও আপনার জন্য খাস দিলে দোয়া করবো তিনি যেন আপনাদের নেক্ হায়াত দেন।”

ফোন টা রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম.. আমরা যারা সমাজের ভালো অবস্থানে আছি, তাদের কাছে এই সাধারণ মানুষদের চাওয়া কত অল্প.. একটুখানি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা..তা দিয়েই তাদের মন জয় করা যায়..

আমার বাবা এভাবেই অগুনিত মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন.. তাদের মন জয় করেছেন.. আমি আল্লাহর কাছে শুধু তার সুস্থ্য থাকার ও ভালো থাকার দোয়া চাই.. তার মতো মানুষের এই সমাজে খুব বেশি দরকার।

লেখক: ব্যারিস্টার সীমা করিম।

আরোও পড়ুন

মৃত্যুঞ্জয়ী মফিজ আলী
মৌলভীবাজারের খ্যাতিমান মনীষী শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী

Share Button