আগামী ১০ বছরে দেশের ৪৪ ভাগ বিদ্যুৎ এলএনজি দিয়ে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ

ডেস্ক রিপোর্ট : জ্বালানি খাতে ফসিল ফুয়েল কমে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজি নির্ভর হয়ে পড়ছে বিদ্যুৎ খাত।বিইআরসির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাড়বে সাড়ে ৪৬ হাজার মেগাওয়াট।ওই সময় এলএনজি থেকে ২০ হাজার ৩০৮ মেগাওয়াট উৎপাদিত হবে-যা মোট উৎপাদনের ৪৪ শতাংশ।

সূত্রমতে, দুই কারণে সাধারণত ফুয়েল মিক্সিং করা হয়। এর একটি হচ্ছে জ্বালানির সংস্থান করা- অন্যটি দাম নিয়ন্ত্রণ। যে জ্বালানির দাম কম সেই জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে উৎপাদন খরচ কমে আসে। আবার সেই জ্বালানি না পাওয়া গেলেও বিকল্প জ্বালানিতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। যেমন এখন ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে দাম পড়ে ইউনিট প্রতি ২৭ টাকা। আবার ফার্নেস অয়েলে ১৩ টাকা, কয়লাতে খরচ হয় ৬ টাকার মতো। আর এলএনজিতে ৭ টাকা, দেশীয় গ্যাসে আড়াই থেকে তিন টাকা।

পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যানে বলা হচ্ছে, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৫ ভাগ হবে কয়লাতে, ৪৫ ভাগ হবে গ্যাস এবং এলএনজিতে, তরল জ্বালানিতে হবে ১০ ভাগ। এরসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আসবে ১০ ভাগ। কিন্তু, এখন সব কিছুর চেয়ে তেল এবং গ্যাসেই বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২৫০ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালে যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে। আমদানি করা বিদ্যুৎ এখন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। ২০৩০ সালে যা গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াটে। অবশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা সরকারের দিক-নির্দেশনা এবং আনুষাঙ্গিক নানা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

এ প্রসঙ্গে বিইআরসি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফুয়েল মিক্সিং একটি গুরুত্বপ‚র্ণ বিষয়। কিন্তু নানা সংকটের কারণে সব ক্ষেত্রে তা ঠিক রাখা যায় না। এখন যেমন তেলের আধিক্য বেশি। এটা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Share Button